ঢাকা ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

খুশকি প্রতিরোধ ও প্রতিকার: বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

হেমন্তের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ও চুলের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। এ সময়ে খুশকি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুশকির কারণ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং এর চিকিৎসা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত।

খুশকির কারণ ও ধরন

সাধারণত যে ছোট সাদা গুঁড়ার মতো খুশকি দেখা যায়, তা সেবোরিক ডারমাটাইটিস রোগে হয়ে থাকে।

  • চিকিৎসা: অনেক ক্ষেত্রেই ছত্রাকরোধী শ্যাম্পু (২ শতাংশ কিটোকোনাজল শ্যাম্পু) ব্যবহার করা হয়। তবে এটি রোজ ব্যবহার করা যায় না, তিন দিন অন্তর ব্যবহার করতে হয়।
  • সোরিয়াসিস: সোরিয়াসিসে আক্রান্তদের মাথার ত্বক থেকে কিছুটা পুরু সাদাটে আস্তর উঠে আসতে দেখা যায়। এটি জোর করে ওঠানোর চেষ্টা করলে রক্তপাত হতে পারে। এর চিকিৎসা সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের হয়।
  • সেবোসোরিয়াসিস: সেবোরিক ডারমাটাইটিস ও সোরিয়াসিস, এই দুই ধরনের সমস্যার মিশ্রণে সেবোসোরিয়াসিস দেখা দিতে পারে।

খুশকি দেখা দিলে কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তবেই চিকিৎসা করা উচিত। চিকিৎসার পরেও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় না রাখলে খুশকি বারবার ফিরে আসতে পারে।

খুশকি প্রতিরোধে সুস্থ জীবনধারা

খুশকি ফিরে আসা প্রতিরোধে জীবনধারা স্বাস্থ্যকর হওয়া জরুরি।

  • পর্যাপ্ত পানি: পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা আবশ্যক।
  • মাথার ত্বক পরিষ্কার: মাথার ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হবে। তবে বাজারের মেন্থলযুক্ত অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • তেল ও ধুলো এড়িয়ে চলুন: চুলে তেল ব্যবহার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। ধুলাবালুতে গেলে মাথা ঢেকে রাখুন। তবে এমন সুতির কাপড় বেছে নিন যার ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। ঘণ্টা দুয়েক পরপর মাথার কাপড় সরিয়ে বাতাস ঢোকার সুযোগ করে দিতে হবে।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: মাথা বা চুলের গোড়া ঘেমে গেলে বা ভিজে গেলে ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। চুলে প্যাক ব্যবহার করলে প্রয়োজনে দুবার শ্যাম্পু করে হলেও মাথার ত্বক পুরোপুরি পরিষ্কার করতে হবে।

💆 চুলের সুস্থতায় রূপবিশেষজ্ঞের পরামর্শ

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের স্বত্বাধিকারী ও রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি চুল ও মাথার ত্বকের সুস্থতায় বছরজুড়ে কিছু বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:

  • শ্যাম্পু নির্বাচন: মাথার ত্বকের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নিন।
  • পরিষ্কার সরঞ্জাম: চিরুনি, ব্রাশ, বালিশের কভার প্রভৃতি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • তাপ এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত গরম পানি মাথায় দেবেন না এবং রুম হিটারের খুব কাছে থাকবেন না।
  • সপ্তাহে একবার চুলের প্যাক:
    • ২ টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
    • অথবা সারা রাত ভিজিয়ে রাখা মেথি সকালে বেটে নিয়ে মাথার ত্বকে লাগানোর ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

খুশকি হলে করণীয়

খুশকি দেখা দিলে সতেজ চুলের জন্য এই উপায়গুলো অনুসরণ করতে পারেন:

  • শ্যাম্পু করার পর সমপরিমাণ পানি আর অ্যাপল সিডার ভিনেগারের মিশ্রণ মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
  • অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে পারেন।
  • নিমপাতা বেটেও মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চলে ‘সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের’ আত্মপ্রকাশ: মোরশেদ মানিক আহবায়ক, মিলন সদস্য সচিব

খুশকি প্রতিরোধ ও প্রতিকার: বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

আপডেট সময় : ১১:০২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

হেমন্তের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ও চুলের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। এ সময়ে খুশকি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুশকির কারণ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং এর চিকিৎসা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত।

খুশকির কারণ ও ধরন

সাধারণত যে ছোট সাদা গুঁড়ার মতো খুশকি দেখা যায়, তা সেবোরিক ডারমাটাইটিস রোগে হয়ে থাকে।

  • চিকিৎসা: অনেক ক্ষেত্রেই ছত্রাকরোধী শ্যাম্পু (২ শতাংশ কিটোকোনাজল শ্যাম্পু) ব্যবহার করা হয়। তবে এটি রোজ ব্যবহার করা যায় না, তিন দিন অন্তর ব্যবহার করতে হয়।
  • সোরিয়াসিস: সোরিয়াসিসে আক্রান্তদের মাথার ত্বক থেকে কিছুটা পুরু সাদাটে আস্তর উঠে আসতে দেখা যায়। এটি জোর করে ওঠানোর চেষ্টা করলে রক্তপাত হতে পারে। এর চিকিৎসা সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের হয়।
  • সেবোসোরিয়াসিস: সেবোরিক ডারমাটাইটিস ও সোরিয়াসিস, এই দুই ধরনের সমস্যার মিশ্রণে সেবোসোরিয়াসিস দেখা দিতে পারে।

খুশকি দেখা দিলে কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তবেই চিকিৎসা করা উচিত। চিকিৎসার পরেও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় না রাখলে খুশকি বারবার ফিরে আসতে পারে।

খুশকি প্রতিরোধে সুস্থ জীবনধারা

খুশকি ফিরে আসা প্রতিরোধে জীবনধারা স্বাস্থ্যকর হওয়া জরুরি।

  • পর্যাপ্ত পানি: পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা আবশ্যক।
  • মাথার ত্বক পরিষ্কার: মাথার ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হবে। তবে বাজারের মেন্থলযুক্ত অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • তেল ও ধুলো এড়িয়ে চলুন: চুলে তেল ব্যবহার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। ধুলাবালুতে গেলে মাথা ঢেকে রাখুন। তবে এমন সুতির কাপড় বেছে নিন যার ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। ঘণ্টা দুয়েক পরপর মাথার কাপড় সরিয়ে বাতাস ঢোকার সুযোগ করে দিতে হবে।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: মাথা বা চুলের গোড়া ঘেমে গেলে বা ভিজে গেলে ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। চুলে প্যাক ব্যবহার করলে প্রয়োজনে দুবার শ্যাম্পু করে হলেও মাথার ত্বক পুরোপুরি পরিষ্কার করতে হবে।

💆 চুলের সুস্থতায় রূপবিশেষজ্ঞের পরামর্শ

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের স্বত্বাধিকারী ও রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি চুল ও মাথার ত্বকের সুস্থতায় বছরজুড়ে কিছু বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:

  • শ্যাম্পু নির্বাচন: মাথার ত্বকের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নিন।
  • পরিষ্কার সরঞ্জাম: চিরুনি, ব্রাশ, বালিশের কভার প্রভৃতি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • তাপ এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত গরম পানি মাথায় দেবেন না এবং রুম হিটারের খুব কাছে থাকবেন না।
  • সপ্তাহে একবার চুলের প্যাক:
    • ২ টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
    • অথবা সারা রাত ভিজিয়ে রাখা মেথি সকালে বেটে নিয়ে মাথার ত্বকে লাগানোর ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

খুশকি হলে করণীয়

খুশকি দেখা দিলে সতেজ চুলের জন্য এই উপায়গুলো অনুসরণ করতে পারেন:

  • শ্যাম্পু করার পর সমপরিমাণ পানি আর অ্যাপল সিডার ভিনেগারের মিশ্রণ মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
  • অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে পারেন।
  • নিমপাতা বেটেও মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।