ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বিয়ের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু পাত্রই সরে গেলেন: বাঁধন

ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাগো নিউজের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘জাগো তারকা’-তে অংশ নিয়ে ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বিয়ে এবং ঈদ উদযাপনের নানা স্মৃতি শেয়ার করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। খোলামেলা এই আড্ডায় জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নতুন করে প্রেম বা বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাঁধন জানান, গত বছর তার বিয়ের চিন্তা ছিল। এমনকি এমন একজন মানুষকেও তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন, যাকে বিয়ের উপযুক্ত মনে হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক পরিণতি পায়নি।

বাঁধনের ভাষায়, ‘গত বছর সত্যিই বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। একজন মানুষকেও পেয়েছিলাম, যাকে বিয়ে করা যায় বলে মনে হয়েছিল। তার পরিবারও আমাকে পছন্দ করত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে-ই সরে গেছে।’

বর্তমানে বিয়ের মতো উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলেও জানান এই অভিনেত্রী। যদিও এর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তবে তা বিয়ের দিকে এগোয়নি।

তিনি বলেন, ‘প্রেম করার জন্য দু-একজন মানুষ জীবনে এসেছিল। একজনের সঙ্গে সম্পর্কও ছিল। কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। সেখানে সঠিক মানুষটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

দুইবার বিয়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, ‘আমি তো ইতোমধ্যে দুইবার বিয়ে করেছি। তাই এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সতর্ক থাকতে চাই।’

ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি ঈদ নিয়ে শৈশবের স্মৃতিও ভাগাভাগি করেন তিনি। বাঁধন জানান, ছোটবেলায় কোরবানির ঈদ মানেই ছিল গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানো।

তিনি বলেন, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়ানো ছিল ঈদের অন্যতম আনন্দ। বিশেষ করে মামা, খালা ও চাচাদের বাসায় যাওয়া-আসার স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাঁধন। তিনি বলেন, বাবার চাকরির কারণে বিভিন্ন মফস্বল এলাকায় থাকলেও ঈদের সময় সবাই মিলে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার আনন্দ ছিল অন্যরকম।

তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেই চিত্রও বদলে গেছে। এখন গ্রামে আগের মতো পরিবারের সদস্যরা থাকেন না, ফলে ঈদে সেখানে যাওয়াও কমে গেছে। তার মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দের জায়গা অনেকটাই দায়িত্বে রূপ নিয়েছে।

রোজার ঈদের স্মৃতি প্রসঙ্গে বাঁধন জানান, তখনকার সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল সিনেমা হলে গিয়ে নতুন ছবি দেখা। বিশেষ করে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখার অভিজ্ঞতা এখনও তার মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

সম্পর্ক, বিয়ে, পরিবার ও শৈশবের স্মৃতি—সবকিছু নিয়েই বরাবরের মতো এবারও অকপট ছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। জীবনের নানা বাস্তবতা নিয়ে নিজের ভাবনা দর্শকদের সামনে স্পষ্টভাবেই তুলে ধরেছেন তিনি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

বিয়ের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু পাত্রই সরে গেলেন: বাঁধন

আপডেট সময় : ১১:৪৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাগো নিউজের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘জাগো তারকা’-তে অংশ নিয়ে ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বিয়ে এবং ঈদ উদযাপনের নানা স্মৃতি শেয়ার করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। খোলামেলা এই আড্ডায় জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নতুন করে প্রেম বা বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাঁধন জানান, গত বছর তার বিয়ের চিন্তা ছিল। এমনকি এমন একজন মানুষকেও তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন, যাকে বিয়ের উপযুক্ত মনে হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক পরিণতি পায়নি।

বাঁধনের ভাষায়, ‘গত বছর সত্যিই বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। একজন মানুষকেও পেয়েছিলাম, যাকে বিয়ে করা যায় বলে মনে হয়েছিল। তার পরিবারও আমাকে পছন্দ করত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে-ই সরে গেছে।’

বর্তমানে বিয়ের মতো উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলেও জানান এই অভিনেত্রী। যদিও এর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তবে তা বিয়ের দিকে এগোয়নি।

তিনি বলেন, ‘প্রেম করার জন্য দু-একজন মানুষ জীবনে এসেছিল। একজনের সঙ্গে সম্পর্কও ছিল। কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। সেখানে সঠিক মানুষটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

দুইবার বিয়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, ‘আমি তো ইতোমধ্যে দুইবার বিয়ে করেছি। তাই এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সতর্ক থাকতে চাই।’

ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি ঈদ নিয়ে শৈশবের স্মৃতিও ভাগাভাগি করেন তিনি। বাঁধন জানান, ছোটবেলায় কোরবানির ঈদ মানেই ছিল গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানো।

তিনি বলেন, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়ানো ছিল ঈদের অন্যতম আনন্দ। বিশেষ করে মামা, খালা ও চাচাদের বাসায় যাওয়া-আসার স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাঁধন। তিনি বলেন, বাবার চাকরির কারণে বিভিন্ন মফস্বল এলাকায় থাকলেও ঈদের সময় সবাই মিলে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার আনন্দ ছিল অন্যরকম।

তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেই চিত্রও বদলে গেছে। এখন গ্রামে আগের মতো পরিবারের সদস্যরা থাকেন না, ফলে ঈদে সেখানে যাওয়াও কমে গেছে। তার মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দের জায়গা অনেকটাই দায়িত্বে রূপ নিয়েছে।

রোজার ঈদের স্মৃতি প্রসঙ্গে বাঁধন জানান, তখনকার সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল সিনেমা হলে গিয়ে নতুন ছবি দেখা। বিশেষ করে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখার অভিজ্ঞতা এখনও তার মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

সম্পর্ক, বিয়ে, পরিবার ও শৈশবের স্মৃতি—সবকিছু নিয়েই বরাবরের মতো এবারও অকপট ছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। জীবনের নানা বাস্তবতা নিয়ে নিজের ভাবনা দর্শকদের সামনে স্পষ্টভাবেই তুলে ধরেছেন তিনি।