ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

মর্মান্তিক: রাজধানীতে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, শোক আর অভিযোগে ভারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত একটি হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে অভিভাবকদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই থেকে তিনদিন বয়সী সন্তানদের হারিয়ে বাবা-মা ও স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ফ্লোর যেন বিষাদে ভারি হয়ে উঠেছে। নবজাতকদের মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও স্বজনদের অভিযোগ, পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বন্ধ থাকার কারণেই এই অকাল মৃত্যু ঘটেছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর জন্ম নেওয়া সন্তানদের পেয়ে যে আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে রূপ নিয়েছে, তা দেখে উপস্থিত সবার চোখেই জল। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। কারও কোলে সদ্যোজাত শিশুর নিথর দেহ, পাশে সদ্য সিজারিয়ান অপারেশন হওয়া মা নিজেও দাঁড়াতে পারছেন না, অথচ সন্তানের মৃত্যু মেনে নেওয়ার কঠিন বাস্তবতার সাথে লড়ছেন।

মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা দাদি নাসিমা বেগম ৩ দিন বয়সী নাতির মরদেহ কাপড়ে পেঁচিয়ে কোলে নিয়ে বসেছিলেন। তিনি জানান, তার নাতির কোনো সমস্যা ছিল না এবং সেদিন রাতেই তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তিনি আরও বলেন, রাতে হঠাৎ করে ১০ থেকে ১৩টি বাচ্চা একসঙ্গে কান্না শুরু করে, কিন্তু তারা কারণ বুঝতে পারছিলেন না এবং কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এরপর সকালে একে একে সব বাচ্চা মারা যায়। দোহার থেকে আসা জানু বেগমও একই অভিযোগ করেন তার মৃত নাতিকে কোলে নিয়ে।

এই ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য রোগীদের স্বজনরাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালটির চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে ক্লিনার—কারো ব্যবহারই ভালো নয়। কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা নাদিম জানান, গতরাত থেকেই তাদের কাউকে ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না। নার্সরা রাতে এসিতে সমস্যার কথা বললেও সকালে একের পর এক শিশুদের মৃতদেহ বের করে আনা হয়। তিনি বলেন, তার ভাইয়ের ছেলেও সকালে মারা গেছে, যার বমি হচ্ছিল এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। এই ঘটনা হাসপাতালের মান ও সেবার গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

মর্মান্তিক: রাজধানীতে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, শোক আর অভিযোগে ভারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ

আপডেট সময় : ০৩:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত একটি হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে অভিভাবকদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই থেকে তিনদিন বয়সী সন্তানদের হারিয়ে বাবা-মা ও স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ফ্লোর যেন বিষাদে ভারি হয়ে উঠেছে। নবজাতকদের মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও স্বজনদের অভিযোগ, পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বন্ধ থাকার কারণেই এই অকাল মৃত্যু ঘটেছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর জন্ম নেওয়া সন্তানদের পেয়ে যে আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে রূপ নিয়েছে, তা দেখে উপস্থিত সবার চোখেই জল। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। কারও কোলে সদ্যোজাত শিশুর নিথর দেহ, পাশে সদ্য সিজারিয়ান অপারেশন হওয়া মা নিজেও দাঁড়াতে পারছেন না, অথচ সন্তানের মৃত্যু মেনে নেওয়ার কঠিন বাস্তবতার সাথে লড়ছেন।

মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা দাদি নাসিমা বেগম ৩ দিন বয়সী নাতির মরদেহ কাপড়ে পেঁচিয়ে কোলে নিয়ে বসেছিলেন। তিনি জানান, তার নাতির কোনো সমস্যা ছিল না এবং সেদিন রাতেই তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তিনি আরও বলেন, রাতে হঠাৎ করে ১০ থেকে ১৩টি বাচ্চা একসঙ্গে কান্না শুরু করে, কিন্তু তারা কারণ বুঝতে পারছিলেন না এবং কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এরপর সকালে একে একে সব বাচ্চা মারা যায়। দোহার থেকে আসা জানু বেগমও একই অভিযোগ করেন তার মৃত নাতিকে কোলে নিয়ে।

এই ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য রোগীদের স্বজনরাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালটির চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে ক্লিনার—কারো ব্যবহারই ভালো নয়। কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা নাদিম জানান, গতরাত থেকেই তাদের কাউকে ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না। নার্সরা রাতে এসিতে সমস্যার কথা বললেও সকালে একের পর এক শিশুদের মৃতদেহ বের করে আনা হয়। তিনি বলেন, তার ভাইয়ের ছেলেও সকালে মারা গেছে, যার বমি হচ্ছিল এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। এই ঘটনা হাসপাতালের মান ও সেবার গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।