ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

সব ঠিক থাকার পরও ‘অকারণে’ ভয় কেন? মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ

অনেক সময় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও মনের ভেতর এক অকারণ ভয় কাজ করে। অফিসে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার পরও বসের বকা শোনার আতঙ্ক, কিংবা পরিবারের সবার ভালোবাসা ও আস্থা পাওয়ার পরও নিজের ইচ্ছাগুলো প্রকাশ করতে দ্বিধা—এমন অনুভূতি অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। কখনও কখনও এই ভয় এতটাই গভীরে বাসা বাঁধে যে ঘুমের মধ্যেও অস্থিরতা পিছু ছাড়ে না।

কিন্তু কেন জন্ম নেয় এই অকারণ ভয়? কীসের এত দুশ্চিন্তা আমাদের ভেতরে? মানুষের মনের এই অজানা ভয়, উদ্বেগ ও অস্থিরতার কারণ এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নিয়ে কথা বলেছেন মনোরোগ চিকিৎসক ডা. আতিকুল হক মজুমদার।

ডা. আতিকুল হক মজুমদার বলেন, মানুষের মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা হলো সম্ভাব্য বিপদের সংকেত খুঁজে বেড়ানো। প্রাচীনকালে বাঘ-ভাল্লুকের যে ভয় ছিল, আধুনিক সময়ে সেই একই মস্তিষ্ক অনেক সাধারণ ঘটনাকেও বড় বিপদ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। যেমন—বসের সামান্য মন খারাপ, কারও নেতিবাচক মন্তব্য কিংবা পরিবারের কারও অসম্মতিকে অবচেতন মন অনেক সময় জীবনসংকটের মতো করে নেয়। ফলে বাস্তবে বড় কোনও সমস্যা না থাকলেও ভেতরে ভেতরে অজানা ভয় ও অস্থিরতা তৈরি হয়।

শৈশব থেকেই সমাজ অনেককে এমনভাবে গড়ে তোলে, যেখানে নিজের চাওয়া বা স্বকীয়তার চেয়ে অন্যের মন রক্ষা করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কীভাবে সবাইকে খুশি রাখা যায়, কীভাবে ভুল না করা যায়—সেই শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই অনেকের মধ্যে গড়ে ওঠে। কিন্তু কোনও কাজ কেন করা হচ্ছে, সেটি যৌক্তিক কি না বা নিজের অনুভূতির মূল্য কতটা—সেই বিচারবোধ অনেক সময় তৈরি হয় না। এর ফলে অফিস কিংবা পরিবারে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেন অনেকে। সবসময় অন্যের প্রত্যাশা পূরণের চাপ থেকে জন্ম নেয় অকারণ অপরাধবোধ, দুশ্চিন্তা ও অদৃশ্য ভয়।

অনেক মানুষই নিজের মন ও অনুভূতিকে নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করার দক্ষতা গড়ে তুলতে পারেন না। ফলে মনের ভেতরে তৈরি হওয়া সাময়িক ভয়, দুশ্চিন্তা বা আশঙ্কাকেই তারা চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেন। যেমন—বসের বকা, কারও অপছন্দ কিংবা ছোট কোনও নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে অনেক সময় মন জীবনের বড় সংকট হিসেবে ব্যাখ্যা করে। অথচ বাস্তবে এসব ঘটনা জীবনের শেষ কথা নয়। কিন্তু সচেতনভাবে চিন্তাগুলোকে আলাদা করে দেখতে না পারায় ভয় ও অস্থিরতা আরও গভীর হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ডা. আতিকুল হক মজুমদার পরামর্শ দিয়েছেন, যখনই মনে অকারণ ভয় আসবে, তখন আবেগ সরিয়ে যুক্তি দিয়ে ভাবুন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা

সব ঠিক থাকার পরও ‘অকারণে’ ভয় কেন? মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

অনেক সময় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও মনের ভেতর এক অকারণ ভয় কাজ করে। অফিসে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার পরও বসের বকা শোনার আতঙ্ক, কিংবা পরিবারের সবার ভালোবাসা ও আস্থা পাওয়ার পরও নিজের ইচ্ছাগুলো প্রকাশ করতে দ্বিধা—এমন অনুভূতি অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। কখনও কখনও এই ভয় এতটাই গভীরে বাসা বাঁধে যে ঘুমের মধ্যেও অস্থিরতা পিছু ছাড়ে না।

কিন্তু কেন জন্ম নেয় এই অকারণ ভয়? কীসের এত দুশ্চিন্তা আমাদের ভেতরে? মানুষের মনের এই অজানা ভয়, উদ্বেগ ও অস্থিরতার কারণ এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নিয়ে কথা বলেছেন মনোরোগ চিকিৎসক ডা. আতিকুল হক মজুমদার।

ডা. আতিকুল হক মজুমদার বলেন, মানুষের মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা হলো সম্ভাব্য বিপদের সংকেত খুঁজে বেড়ানো। প্রাচীনকালে বাঘ-ভাল্লুকের যে ভয় ছিল, আধুনিক সময়ে সেই একই মস্তিষ্ক অনেক সাধারণ ঘটনাকেও বড় বিপদ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। যেমন—বসের সামান্য মন খারাপ, কারও নেতিবাচক মন্তব্য কিংবা পরিবারের কারও অসম্মতিকে অবচেতন মন অনেক সময় জীবনসংকটের মতো করে নেয়। ফলে বাস্তবে বড় কোনও সমস্যা না থাকলেও ভেতরে ভেতরে অজানা ভয় ও অস্থিরতা তৈরি হয়।

শৈশব থেকেই সমাজ অনেককে এমনভাবে গড়ে তোলে, যেখানে নিজের চাওয়া বা স্বকীয়তার চেয়ে অন্যের মন রক্ষা করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কীভাবে সবাইকে খুশি রাখা যায়, কীভাবে ভুল না করা যায়—সেই শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই অনেকের মধ্যে গড়ে ওঠে। কিন্তু কোনও কাজ কেন করা হচ্ছে, সেটি যৌক্তিক কি না বা নিজের অনুভূতির মূল্য কতটা—সেই বিচারবোধ অনেক সময় তৈরি হয় না। এর ফলে অফিস কিংবা পরিবারে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেন অনেকে। সবসময় অন্যের প্রত্যাশা পূরণের চাপ থেকে জন্ম নেয় অকারণ অপরাধবোধ, দুশ্চিন্তা ও অদৃশ্য ভয়।

অনেক মানুষই নিজের মন ও অনুভূতিকে নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করার দক্ষতা গড়ে তুলতে পারেন না। ফলে মনের ভেতরে তৈরি হওয়া সাময়িক ভয়, দুশ্চিন্তা বা আশঙ্কাকেই তারা চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেন। যেমন—বসের বকা, কারও অপছন্দ কিংবা ছোট কোনও নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে অনেক সময় মন জীবনের বড় সংকট হিসেবে ব্যাখ্যা করে। অথচ বাস্তবে এসব ঘটনা জীবনের শেষ কথা নয়। কিন্তু সচেতনভাবে চিন্তাগুলোকে আলাদা করে দেখতে না পারায় ভয় ও অস্থিরতা আরও গভীর হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ডা. আতিকুল হক মজুমদার পরামর্শ দিয়েছেন, যখনই মনে অকারণ ভয় আসবে, তখন আবেগ সরিয়ে যুক্তি দিয়ে ভাবুন।