ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

মগবাজারের হাসপাতালে এসি ত্রুটিতে ৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু

রাজধানীর মগবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে এসি সিস্টেমে ত্রুটির কারণে গ্যাস লিকেজ হয়ে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গভীর রাতে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া ১১ জন মা ও ছয় নবজাতক অবস্থান করছিল। ঠান্ডা অনুভব করায় একজন মা নার্সকে এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন। নার্স প্রায় এক ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখলেও পরে গরম লাগায় পুনরায় চালু করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই দুই নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে বাকি চার শিশুর অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকেরই প্রাণহানি ঘটে।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, যেখান থেকে গ্যাস লিকেজ হওয়ার কারণে শিশুদের অবস্থার অবনতি ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এবং তারা সবাই পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। ঘটনার পর হাসপাতালের পরিবেশ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে। এক শিশুর দাদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, চিকিৎসকেরা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে তাদের অন্য হাসপাতালে যেতে বলা উচিত ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স ছিলেন না এবং শিশুরা সারারাত কান্না করছিল ও একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।

সন্তান হারানো আরেক মা জানান, রাতে ওয়ার্ডের প্রায় সব শিশুই কান্না ও বমি করছিল, কিন্তু কেউ বুঝতে পারেননি কী ঘটছে। সকালে শিশুর অবস্থা খারাপ হলে তাকে বাইরে নেওয়া হয় এবং পরে এনআইসিইউতে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমে আশ্বস্ত করলেও কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।

হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয়জন শিশু ছিল। প্রথমে দুটি শিশু অসুস্থ হলে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে আবার ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সকাল ৬টার দিকে আবারও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও তাদের বাঁচানো যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

মগবাজারের হাসপাতালে এসি ত্রুটিতে ৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় : ০২:২৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে এসি সিস্টেমে ত্রুটির কারণে গ্যাস লিকেজ হয়ে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গভীর রাতে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া ১১ জন মা ও ছয় নবজাতক অবস্থান করছিল। ঠান্ডা অনুভব করায় একজন মা নার্সকে এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন। নার্স প্রায় এক ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখলেও পরে গরম লাগায় পুনরায় চালু করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই দুই নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে বাকি চার শিশুর অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকেরই প্রাণহানি ঘটে।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, যেখান থেকে গ্যাস লিকেজ হওয়ার কারণে শিশুদের অবস্থার অবনতি ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এবং তারা সবাই পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। ঘটনার পর হাসপাতালের পরিবেশ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে। এক শিশুর দাদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, চিকিৎসকেরা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে তাদের অন্য হাসপাতালে যেতে বলা উচিত ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স ছিলেন না এবং শিশুরা সারারাত কান্না করছিল ও একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।

সন্তান হারানো আরেক মা জানান, রাতে ওয়ার্ডের প্রায় সব শিশুই কান্না ও বমি করছিল, কিন্তু কেউ বুঝতে পারেননি কী ঘটছে। সকালে শিশুর অবস্থা খারাপ হলে তাকে বাইরে নেওয়া হয় এবং পরে এনআইসিইউতে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমে আশ্বস্ত করলেও কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।

হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয়জন শিশু ছিল। প্রথমে দুটি শিশু অসুস্থ হলে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে আবার ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সকাল ৬টার দিকে আবারও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও তাদের বাঁচানো যায়নি।