রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাস লিকেজের কারণে একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সকালে ঘটে এবং তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডের এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়, যা থেকে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। এর ফলে ওই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয় এবং একে একে ছয়টি শিশু প্রাণ হারায়। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার সময় ওয়ার্ডটিতে ১১ জন মা এবং ছয়জন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ছিল, যাদের বয়স এক থেকে দুই দিনের মধ্যে। তারা সবাই পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল।
ঘটনার পর হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এক শিশুর দাদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, চিকিৎসকেরা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে তাদের অন্য হাসপাতালে যেতে বলা উচিত ছিল। তিনি জানান, তার নাতনিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় এবং ওষুধ কেনার জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর জানতে পারেন, শিশুটি আর বেঁচে নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স ছিলেন না এবং বাচ্চারা সারারাত কান্না করছিল ও অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।
সন্তান হারানো আরেক মা একই অভিযোগ করে বলেন, রাতে ওয়ার্ডের প্রায় সব শিশুই কান্না ও বমি করছিল। তারা কেউ বুঝতে পারেননি কী ঘটছে। সকালে শিশুর অবস্থা খারাপ হলে তাকে বাইরে নেওয়া হয়। পরে নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমে আশ্বস্ত করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।
হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে যে ১১ জন মা ও ছয়জন শিশু ছিল, তাদের মধ্যে প্রথমে দুটি শিশু অসুস্থ হলে এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে তাদের আবার ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনা হয়। সকাল ৬টার দিকে শিশুরা আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের পুনরায় এনআইসিইউতে নিয়ে ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। পুলিশ এই ঘটনায় নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















