ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জ ও অবদান

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এক গভীর সংকটের সম্মুখীন। একদিকে সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে, অন্যদিকে শান্তিরক্ষা মিশনের জনবল ও অর্থায়ন কমছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ বছরের মধ্যে বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিকভাবে মিশনে নিয়োজিত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যের সংখ্যা গত এক দশকে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তহবিল সংকট, বড় শক্তিগুলোর রাজনৈতিক বিভক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ড্রোননির্ভর অপপ্রচার, সাইবার ঝুঁকি এবং জটিল আঞ্চলিক সংঘাত শান্তিরক্ষীদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

এমন এক অস্থির বৈশ্বিক বাস্তবতায়ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ এখনও আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা তাদের পেশাদারত্ব, মানবিকতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। ১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও আজ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের হাজার হাজার সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন। দক্ষিণ সুদান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, লেবানন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ সংঘাতকবলিত অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। বিশেষ করে নারী পুলিশ ও সামরিক সদস্যদের অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে এক অনন্য মর্যাদা এনে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে তাই শুধু বিশ্বশান্তির জন্য আত্মত্যাগী শান্তিরক্ষীদের স্মরণই নয়, বরং নতুন বাস্তবতায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আর্থিক সহায়তা এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এসেছে। আর সেই বৈশ্বিক প্রয়াসে বাংলাদেশ এখনও অন্যতম নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রতি বছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। তবে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির কারণে এবার বাংলাদেশে দিবসটির আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হবে আগামী ১০ জুন। আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা

সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জ ও অবদান

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এক গভীর সংকটের সম্মুখীন। একদিকে সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে, অন্যদিকে শান্তিরক্ষা মিশনের জনবল ও অর্থায়ন কমছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ বছরের মধ্যে বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিকভাবে মিশনে নিয়োজিত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যের সংখ্যা গত এক দশকে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তহবিল সংকট, বড় শক্তিগুলোর রাজনৈতিক বিভক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ড্রোননির্ভর অপপ্রচার, সাইবার ঝুঁকি এবং জটিল আঞ্চলিক সংঘাত শান্তিরক্ষীদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

এমন এক অস্থির বৈশ্বিক বাস্তবতায়ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ এখনও আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা তাদের পেশাদারত্ব, মানবিকতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। ১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও আজ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের হাজার হাজার সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন। দক্ষিণ সুদান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, লেবানন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ সংঘাতকবলিত অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। বিশেষ করে নারী পুলিশ ও সামরিক সদস্যদের অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে এক অনন্য মর্যাদা এনে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে তাই শুধু বিশ্বশান্তির জন্য আত্মত্যাগী শান্তিরক্ষীদের স্মরণই নয়, বরং নতুন বাস্তবতায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আর্থিক সহায়তা এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এসেছে। আর সেই বৈশ্বিক প্রয়াসে বাংলাদেশ এখনও অন্যতম নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রতি বছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। তবে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির কারণে এবার বাংলাদেশে দিবসটির আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হবে আগামী ১০ জুন। আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।