ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ১০০ দিন: সারাদেশে সুবিধাভোগী ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঘোষিত এবং বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার গঠনের পর দ্রুততম সময়ে এই কার্ড চালু করা হয়, যার মাধ্যমে প্রান্তিক, হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত মোট ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার। এই উদ্যোগ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর আওতায় আড়াই হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা সরাসরি কার্ডধারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তবে এই কার্ড সবার জন্য নয়। মূলত হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের নারীরা এ সুবিধা পাচ্ছেন। ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবার, হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি সরকার আরও কয়েকটি কার্ডভিত্তিক উদ্যোগ চালু করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কৃষক কার্ড। পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে এই কার্ড, যার মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়াও ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ফুয়েল কার্ড (ফুয়েল পাস) এবং ক্যাপ্টেনস কার্ডও চালু করেছে সরকার।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মসূচির প্রাথমিক ধাপে দেশের ১৩টি জেলার সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন থেকে ৩৭ হাজার ৫৬৪টির বেশি নারী-প্রধান পরিবার এই কার্ড সুবিধা পেয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ২ কোটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে সব নগদ ভাতা এবং টিসিবির সহায়তা একটিমাত্র কার্ডের অধীনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে আড়াই হাজার করে টাকা প্রদানের কথাও নীতিমালায় উল্লেখ আছে।

চট্টগ্রামে সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের সুফল পাচ্ছে ৫ হাজার ৫৭৫ পরিবার। নগরের ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে শুরু হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ১০০ দিন: সারাদেশে সুবিধাভোগী ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ০৫:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঘোষিত এবং বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার গঠনের পর দ্রুততম সময়ে এই কার্ড চালু করা হয়, যার মাধ্যমে প্রান্তিক, হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত মোট ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার। এই উদ্যোগ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর আওতায় আড়াই হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা সরাসরি কার্ডধারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তবে এই কার্ড সবার জন্য নয়। মূলত হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের নারীরা এ সুবিধা পাচ্ছেন। ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবার, হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি সরকার আরও কয়েকটি কার্ডভিত্তিক উদ্যোগ চালু করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কৃষক কার্ড। পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে এই কার্ড, যার মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়াও ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ফুয়েল কার্ড (ফুয়েল পাস) এবং ক্যাপ্টেনস কার্ডও চালু করেছে সরকার।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মসূচির প্রাথমিক ধাপে দেশের ১৩টি জেলার সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন থেকে ৩৭ হাজার ৫৬৪টির বেশি নারী-প্রধান পরিবার এই কার্ড সুবিধা পেয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ২ কোটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে সব নগদ ভাতা এবং টিসিবির সহায়তা একটিমাত্র কার্ডের অধীনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে আড়াই হাজার করে টাকা প্রদানের কথাও নীতিমালায় উল্লেখ আছে।

চট্টগ্রামে সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের সুফল পাচ্ছে ৫ হাজার ৫৭৫ পরিবার। নগরের ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে শুরু হয়।