ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকা নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে আবারও গুলি

খুলনা নগরীর লবণচরা এলাকার তালিকাভুক্ত অপরাধী রাজু হাওলাদারকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে রহস্যজনকভাবে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা নেওয়ার পথে আবারও তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পর পর দুইবার এই যুবকের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহত রাজু হাওলাদার লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা এবং পুলিশের তথ্যমতে তার অপরাধের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। দেশের বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং শুধুমাত্র লবণচরা থানাতেই তার বিরুদ্ধে চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঝুলে আছে।

ঘটনার শুরু হয় গত সোমবার রাতে, যখন খুলনার কোবা মসজিদ এলাকায় রাজু পেটে গুলিবিদ্ধ হন। তবে ঠিক কখন এবং কার হাতে তিনি প্রথমবার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে রাজুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, অ্যাম্বুলেন্সটি রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীরা গাড়িটি লক্ষ্য করে পুনরায় গুলি ছোড়ে।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহম্মেদ জানান, অ্যাম্বুলেন্সের ওপর গুলির খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং পুলিশি পাহারায় রাজুকে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে। যদিও গুলিতে নতুন করে কেউ হতাহত হয়নি, তবুও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানিয়েছেন, রাজু একজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার সুচিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে কেন এবং কারা বারবার তাকে হত্যার চেষ্টা করছে, তা উদঘাটনে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কোনো গ্যাং কালচার বা অপরাধী গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের শত্রুতা রয়েছে কি না, সেটিই এখন পুলিশের তদন্তের মূল বিষয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা চুক্তি: দীর্ঘ দেড় দশকের অচলাবস্থা নিরসনে নতুন আশার আলো

খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকা নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে আবারও গুলি

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

খুলনা নগরীর লবণচরা এলাকার তালিকাভুক্ত অপরাধী রাজু হাওলাদারকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে রহস্যজনকভাবে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা নেওয়ার পথে আবারও তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পর পর দুইবার এই যুবকের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহত রাজু হাওলাদার লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা এবং পুলিশের তথ্যমতে তার অপরাধের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। দেশের বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং শুধুমাত্র লবণচরা থানাতেই তার বিরুদ্ধে চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঝুলে আছে।

ঘটনার শুরু হয় গত সোমবার রাতে, যখন খুলনার কোবা মসজিদ এলাকায় রাজু পেটে গুলিবিদ্ধ হন। তবে ঠিক কখন এবং কার হাতে তিনি প্রথমবার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে রাজুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, অ্যাম্বুলেন্সটি রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীরা গাড়িটি লক্ষ্য করে পুনরায় গুলি ছোড়ে।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহম্মেদ জানান, অ্যাম্বুলেন্সের ওপর গুলির খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং পুলিশি পাহারায় রাজুকে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে। যদিও গুলিতে নতুন করে কেউ হতাহত হয়নি, তবুও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানিয়েছেন, রাজু একজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার সুচিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে কেন এবং কারা বারবার তাকে হত্যার চেষ্টা করছে, তা উদঘাটনে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কোনো গ্যাং কালচার বা অপরাধী গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের শত্রুতা রয়েছে কি না, সেটিই এখন পুলিশের তদন্তের মূল বিষয়।