ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

জৈন্তিয়া রাজ্যের প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

সিলেটের প্রাচীন জৈন্তিয়া রাজ্যের ইতিহাসে মুসলিম স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে আছে ‘বন্দরহাটি মসজিদ’। ১৭৬৭ সালে তৎকালীন রাজা অনুতপ্ত হয়ে মুসলমানদের জন্য এই মসজিদটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। প্রায় দুই বছর সময় নিয়ে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ১৮৯৭ সালের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত জৈন্তিয়ার মুসলমানদের গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল। কালের বিবর্তনে মূল কাঠামোটি বিলীন হয়ে গেলেও আজও এটি স্থানীয়দের কাছে ‘রাজার বানানো মসজিদ’ হিসেবে সমধিক পরিচিত।

জৈন্তিয়া রাজ্যে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম স্থাপনা এখনো টিকে আছে, যার মধ্যে হজরত শাহজির মোকাম অন্যতম। রাজা বিজয়নারায়ণ সিংহের আমলে নির্মিত এই মোকামটি আজও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। তৎকালীন রাজারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং তাদের সম্মানে এসব নান্দনিক স্থাপনা তৈরি করে দিয়েছিলেন।

এছাড়া হজরত কাশিম শাহর বসতবাড়িটিও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা তৎকালীন সময়ে ইসলামী শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো। রাজদরবারের বিচারকের মর্যাদা পাওয়া কাশিম শাহকে রাজা বড়গোসাঁই এই বাড়ি এবং জমিদারি দান করেছিলেন। প্রাচীন এই স্থাপত্যগুলো আজও জৈন্তিয়া রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

জৈন্তিয়া রাজ্যের প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

আপডেট সময় : ০৫:১৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

সিলেটের প্রাচীন জৈন্তিয়া রাজ্যের ইতিহাসে মুসলিম স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে আছে ‘বন্দরহাটি মসজিদ’। ১৭৬৭ সালে তৎকালীন রাজা অনুতপ্ত হয়ে মুসলমানদের জন্য এই মসজিদটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। প্রায় দুই বছর সময় নিয়ে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ১৮৯৭ সালের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত জৈন্তিয়ার মুসলমানদের গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল। কালের বিবর্তনে মূল কাঠামোটি বিলীন হয়ে গেলেও আজও এটি স্থানীয়দের কাছে ‘রাজার বানানো মসজিদ’ হিসেবে সমধিক পরিচিত।

জৈন্তিয়া রাজ্যে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম স্থাপনা এখনো টিকে আছে, যার মধ্যে হজরত শাহজির মোকাম অন্যতম। রাজা বিজয়নারায়ণ সিংহের আমলে নির্মিত এই মোকামটি আজও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। তৎকালীন রাজারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং তাদের সম্মানে এসব নান্দনিক স্থাপনা তৈরি করে দিয়েছিলেন।

এছাড়া হজরত কাশিম শাহর বসতবাড়িটিও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা তৎকালীন সময়ে ইসলামী শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো। রাজদরবারের বিচারকের মর্যাদা পাওয়া কাশিম শাহকে রাজা বড়গোসাঁই এই বাড়ি এবং জমিদারি দান করেছিলেন। প্রাচীন এই স্থাপত্যগুলো আজও জৈন্তিয়া রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।