চিহানোভে অনুষ্ঠিত ৩০তম আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবের পর্দা নামার পর বাসে করে হোটেলে ফিরছিলাম আমরা। সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ হোটেলে পৌঁছে প্রায় সকলেই নেমে গেলেন। কিন্তু ডারিউস লেবিয়ডা, হাতিফ জানাবি ও হুসেন হাবেশ তখনও গল্পে মগ্ন। আমি নামার সময় ডারিউস পকেট থেকে আলফ্রেড নোবেলের ছবি সম্বলিত একটি সোনালি চাকতি বের করে বললেন, “হাসানআল, সুইডিশ একাডেমি এটা তোমার জন্য পাঠিয়েছে।” আমি যখন অবাক হয়ে ভাবছি কী উত্তর দেবো, তখন হাতিফ ও হুসেন হেসে কুটিকুটি। হাতিফ বলে উঠলেন, “হাসানআল এখনো বয়সে ছোটো। ওই পুরস্কার পাওয়ার সময় তার এখনো হয়নি।” সুযোগ পেয়ে আমি বললাম, “ওটা বরং আপাতত আমার বড়ো ভাই হাতিফকে দিয়ে দিন। আমি পরে কোনো একবছর নেবো।” সবাই একযোগে হেসে উঠলে আমিও তাদের সাথে যোগ দেই।
পরদিন সকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ভেতর কাতারজিনা গাড়ি চালাচ্ছিলেন ভ্রসলোভের দিকে। আমরা ইতোমধ্যে হোটেল ছেড়ে হাইওয়েতে উঠে পড়েছি। গন্তব্য ছিল তার ছোটোবোনের বাসা, যেখানে তার মেয়ে নেয়োমির ১৫তম জন্মদিনের পারিবারিক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিতে হবে। প্রায় সাড়ে চারশো’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। এক দফা রাস্তা ভুল করে বিরক্ত হয়ে যখন তিনি গাড়ি ঘোরাতে ব্যস্ত, তখন আমি বাসের ওই মজার ঘটনা রসিয়ে রসিয়ে বললে হাসির দমকে তার বিরক্তি কেটে গেলো। তিনি বললেন, “পৃথিবীতে যতদিন রসিকতা আছে, ততদিন মানুষের ধ্বংস নেই।”
আমি রসিকতা করে বললাম, “তোমার ভাগনির জন্মদিন আরেকদিন পরে হলে কি এমন ক্ষতি হতো! তিন দিনের কবিতা উৎসব সেরে বাসায় ফিরে আরামের ঘুম দিয়ে আমরা পরের দিন জন্মদিনের কেক কাটতে পারতাম।” তিনি আমার রসিকতা ধরতে পারলেন এবং বললেন, “আদতে ওর জন্মদিন দুই দিন আগে। কিন্তু শুক্র ও শনিবার পরিবারের সবাই একত্রিত হতে পারবেন না বলে আজ অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। না গেলেই নয়।”
গাড়ি চিহানোভ থেকে দক্ষিণ দিকে ছুটে চললো গ্রামের ভেতর দিয়ে। এমন সাজানো গোছানো গ্রামকে আদতে গ্রাম বলা যায় কিনা, তাই ভাবছিলাম। আমি বললাম, “তোমাদের এখানে একটা জিনিস আমার ভালো লাগে। সব কিছু একেবারে হিসাব করে সাজিয়ে রাখা। গাছের পরে গাছ, ক্ষেতের পরে খেত, বাড়ির পরে বাড়ি—সবকিছু যেন একটা সমীকরণের ভেতর ফেলে রাখা হয়েছে। পরিপাটি, সুন্দর, সুশৃঙ্খল।” কাতারজিনা বললেন, “যারা এমনকি ক্ষেত করেন, গাছ লাগান তারাও আগে থেকে হিসাব করে নেন, কীভাবে এগুলোর পরিচর্যা করা যাবে।”
রিপোর্টারের নাম 

























