দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ প্রতি বছর কোরবানির ঈদের দিন ঢাকায় থাকেন বাড়তি আয়ের আশায়। তারা মৌসুমি কসাই হিসেবে কাজ করে যেমন বাড়তি অর্থ উপার্জন করেন, তেমনি কোরবানির মাংসও পান। এই মাংস বিক্রি করে তারা নিজেদের এবং পরিবারের জন্য ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও নিশ্চিত করেন।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার আইয়ুব হোসেন ১৩ বছর ধরে কোরবানির ঈদের দিন ঢাকায় থাকেন। মৌসুমি কসাই হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি মাংস বিক্রি করে তিনি জানান, অভাবের তাড়নায় স্ত্রী-সন্তানকে গ্রামে রেখে ঢাকায় আসা তার জন্য জরুরি। তিনি বলেন, ‘অভাবী মানুষ। কষ্টের মধ্যে চলে আসছি। অভাবী মানুষ বিয়ে করছি, সংসার হইছে, তাদের জন্যই তো আমার ঈদ।’ ঈদের পর পরিবারের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার প্রত্যাশা তার।
একইভাবে, ৬৪ বছর বয়সী চাঁদ আলীও প্রতি বছর ঈদের দিন স্ত্রী-সন্তানদের ছেড়ে ঢাকায় থাকেন। কুষ্টিয়ার এই বাসিন্দা জানান, জীবনের ৪০ বছর কোরবানির ঈদ তিনি পরিবার নিয়ে করতে পারেননি। তিন বেলা খাবার জোগাড় করতেই বছর পার হয়ে যায়, তাই প্রতি বছর কোরবানির মাংস তৈরির কাজে ঢাকায় আসেন। তার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন ও সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে অপেক্ষা করেন ঈদের পরদিনের জন্য। প্রথমদিকে খারাপ লাগলেও এখন আর তার কোনো আক্ষেপ নেই।
শুধু আইয়ুব আলী বা চাঁদ আলীই নন, তাদের মতো আরও অনেক মানুষ ঈদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে ঢাকায় পরিশ্রম করেন। বাড়তি আয়ের জন্য তারা কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজে নিয়োজিত থাকেন। ঈদের দিন বাড়িতে না থাকার এই বাস্তবতা তাদের জীবনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে নিজেদের বিসর্জন দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোই মূল লক্ষ্য।
রিপোর্টারের নাম 



















