ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

হেলিকপ্টারের মতো ঘোরে প্রকৃতির বীজ, ‘হলোং’ গাছের টিকে থাকার এক অদ্ভুত কৌশল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

গ্রীষ্মের দুপুরে বনের মাঝে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালে মনে হতে পারে, ছোট ছোট ড্রোনের ঝাঁক যেন ঘুরতে ঘুরতে নিচে নেমে আসছে। কিন্তু এগুলো মানুষের তৈরি কোনো ড্রোন নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চলের এক সুউচ্চ গাছ ‘হলোং’-এর ডানাযুক্ত ফল। গাছ থেকে নিচে পড়ার সময় এই ফলগুলো হেলিকপ্টারের পাখার মতো অনবরত ঘুরতে থাকে, যা প্রকৃতির লাখ লাখ বছরের বিবর্তন এবং টিকে থাকার এক অসাধারণ কৌশল।

বৈজ্ঞানিক নাম ডিপ্টেরোকারপাস রেটুসাস হলেও এটি মূলত ‘হলোং’ গাছ নামেই পরিচিত। প্রায় ৬০ মিটার পর্যন্ত উঁচু ও মজবুত এই গাছটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আদিবাসী সম্প্রদায় অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এটি নানা পৌরাণিক গল্প ও আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। শিল্পক্ষেত্রে এর উচ্চমানের কাঠ ঘরবাড়ি নির্মাণ, আসবাবপত্র ও নৌকা তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও, এর বীজ বিস্তারের এই চমৎকার কৌশল সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানেন।

হলোং গাছের বড় আকৃতির ফলগুলোতে দুটি করে ডানা থাকে। গাছ থেকে নিচে পড়ার সময় ডানাগুলোর কারণে এগুলো বাতাসে ঠিক হেলিকপ্টারের মতো চক্কর খেতে খেতে নামে। এই ঘূর্ণনের ফলে ফলগুলো সরাসরি গাছের নিচে না পড়ে বাতাসের তোড়ে মূল গাছ থেকে বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে উর্বর মাটিতে পড়ার সুযোগ পায়। এর ফলে নতুন চারাগুলো কোনও বাধা ছাড়াই স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

শুষ্ক মৌসুমে যখন কয়েক দশ মিটার উঁচু থেকে ডজন ডজন প্রাকৃতিক ‘ড্রোন’ অনবরত ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে নামতে থাকে, তখন এক জাদুকরি ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের অবতারণা হয়, যা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা হলোং গাছের এই অদ্ভুত টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভারতের আসাম রাজ্যে প্রচুর পরিমাণে হলোং গাছ থাকায় গ্রীষ্মের আকাশে এমন ‘হেলিকপ্টার ফলের’ ঝাঁক দেখার সবচেয়ে আদর্শ জায়গা এটি। মজার বিষয় হলো, এই হলোং গাছটিই আসামের রাষ্ট্রীয় বৃক্ষ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ উদযাপনের মধ্যে মর্মান্তিক ঘটনা: গলায় মাংস আটকে কিশোরের মৃত্যু

হেলিকপ্টারের মতো ঘোরে প্রকৃতির বীজ, ‘হলোং’ গাছের টিকে থাকার এক অদ্ভুত কৌশল

আপডেট সময় : ১০:২২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

গ্রীষ্মের দুপুরে বনের মাঝে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালে মনে হতে পারে, ছোট ছোট ড্রোনের ঝাঁক যেন ঘুরতে ঘুরতে নিচে নেমে আসছে। কিন্তু এগুলো মানুষের তৈরি কোনো ড্রোন নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনাঞ্চলের এক সুউচ্চ গাছ ‘হলোং’-এর ডানাযুক্ত ফল। গাছ থেকে নিচে পড়ার সময় এই ফলগুলো হেলিকপ্টারের পাখার মতো অনবরত ঘুরতে থাকে, যা প্রকৃতির লাখ লাখ বছরের বিবর্তন এবং টিকে থাকার এক অসাধারণ কৌশল।

বৈজ্ঞানিক নাম ডিপ্টেরোকারপাস রেটুসাস হলেও এটি মূলত ‘হলোং’ গাছ নামেই পরিচিত। প্রায় ৬০ মিটার পর্যন্ত উঁচু ও মজবুত এই গাছটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আদিবাসী সম্প্রদায় অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এটি নানা পৌরাণিক গল্প ও আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। শিল্পক্ষেত্রে এর উচ্চমানের কাঠ ঘরবাড়ি নির্মাণ, আসবাবপত্র ও নৌকা তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও, এর বীজ বিস্তারের এই চমৎকার কৌশল সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানেন।

হলোং গাছের বড় আকৃতির ফলগুলোতে দুটি করে ডানা থাকে। গাছ থেকে নিচে পড়ার সময় ডানাগুলোর কারণে এগুলো বাতাসে ঠিক হেলিকপ্টারের মতো চক্কর খেতে খেতে নামে। এই ঘূর্ণনের ফলে ফলগুলো সরাসরি গাছের নিচে না পড়ে বাতাসের তোড়ে মূল গাছ থেকে বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে উর্বর মাটিতে পড়ার সুযোগ পায়। এর ফলে নতুন চারাগুলো কোনও বাধা ছাড়াই স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

শুষ্ক মৌসুমে যখন কয়েক দশ মিটার উঁচু থেকে ডজন ডজন প্রাকৃতিক ‘ড্রোন’ অনবরত ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে নামতে থাকে, তখন এক জাদুকরি ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের অবতারণা হয়, যা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা হলোং গাছের এই অদ্ভুত টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভারতের আসাম রাজ্যে প্রচুর পরিমাণে হলোং গাছ থাকায় গ্রীষ্মের আকাশে এমন ‘হেলিকপ্টার ফলের’ ঝাঁক দেখার সবচেয়ে আদর্শ জায়গা এটি। মজার বিষয় হলো, এই হলোং গাছটিই আসামের রাষ্ট্রীয় বৃক্ষ।