ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ঈদের প্রথম দিনেই সাভার ট্যানারিতে প্রবেশ করলো ২ লক্ষাধিক কাঁচা চামড়া

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিনেই ঢাকার সাভারের বিসিক চামড়া শিল্প নগরীতে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া এসে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা ১২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে মোট ২ লক্ষ ২২ হাজার ২৩৩ পিস কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দু’দিনে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

সরেজমিনে শিল্প নগরী পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ট্যানারিগুলোতে একের পর এক ট্রাকে করে কাঁচা চামড়া আনা হচ্ছে। শিল্পনগরীর প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ট্যানারির অভ্যন্তর পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয়নি। শ্রমিকরা চামড়া আনলোড, সংরক্ষণ এবং লবণজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চামড়া শিল্প নগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৮৭০টি ট্রাকে করে শিল্পনগরীতে চামড়া এসেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া রয়েছে ২ লক্ষ ১৪ হাজার ৩১৩টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ৭ হাজার ৯২০টি। তিনি আরও বলেন, শিল্পনগরীতে আসা চামড়া দ্রুত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলছে। ঈদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চামড়া পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শিল্প নগরীর প্রধান ফটকে দায়িত্বরত কর্মীরা জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম কোরবানির পশুর চামড়াবাহী একটি গাড়ি শিল্পনগরীতে প্রবেশ করে। এরপর সময়ের সাথে সাথে ট্রাকের চাপ বাড়তে থাকে। দিনের প্রথম ধাপে আসা চামড়ার বড় অংশই ছিল রক্তমাখা কাঁচা চামড়া। ট্যানারিতে পৌঁছানোর পর শ্রমিকরা দ্রুত সেগুলোতে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন।

ট্যানারি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বছরের সবচেয়ে বড় মৌসুম হওয়ায় চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। অনেক ট্যানারিতে আগে থেকেই বড় পরিমাণে চামড়া মজুত থাকলেও নতুন করে সংগ্রহ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। আজমীর লেদারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ জানিয়েছেন, এ মৌসুমে তাদের প্রায় ২০ হাজার পিস চামড়া কেনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েক হাজার চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মূলত দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সরবরাহকারীদের কাছ থেকেই চামড়া কেনা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক ও সমতা লেদারের মালিক মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ বছর প্রায় ১ কোটি পিস কোরবানির চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

ঈদের প্রথম দিনেই সাভার ট্যানারিতে প্রবেশ করলো ২ লক্ষাধিক কাঁচা চামড়া

আপডেট সময় : ০৩:০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিনেই ঢাকার সাভারের বিসিক চামড়া শিল্প নগরীতে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া এসে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা ১২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে মোট ২ লক্ষ ২২ হাজার ২৩৩ পিস কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দু’দিনে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

সরেজমিনে শিল্প নগরী পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ট্যানারিগুলোতে একের পর এক ট্রাকে করে কাঁচা চামড়া আনা হচ্ছে। শিল্পনগরীর প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ট্যানারির অভ্যন্তর পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয়নি। শ্রমিকরা চামড়া আনলোড, সংরক্ষণ এবং লবণজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চামড়া শিল্প নগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৮৭০টি ট্রাকে করে শিল্পনগরীতে চামড়া এসেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া রয়েছে ২ লক্ষ ১৪ হাজার ৩১৩টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ৭ হাজার ৯২০টি। তিনি আরও বলেন, শিল্পনগরীতে আসা চামড়া দ্রুত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলছে। ঈদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চামড়া পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শিল্প নগরীর প্রধান ফটকে দায়িত্বরত কর্মীরা জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম কোরবানির পশুর চামড়াবাহী একটি গাড়ি শিল্পনগরীতে প্রবেশ করে। এরপর সময়ের সাথে সাথে ট্রাকের চাপ বাড়তে থাকে। দিনের প্রথম ধাপে আসা চামড়ার বড় অংশই ছিল রক্তমাখা কাঁচা চামড়া। ট্যানারিতে পৌঁছানোর পর শ্রমিকরা দ্রুত সেগুলোতে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন।

ট্যানারি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বছরের সবচেয়ে বড় মৌসুম হওয়ায় চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। অনেক ট্যানারিতে আগে থেকেই বড় পরিমাণে চামড়া মজুত থাকলেও নতুন করে সংগ্রহ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। আজমীর লেদারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ জানিয়েছেন, এ মৌসুমে তাদের প্রায় ২০ হাজার পিস চামড়া কেনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েক হাজার চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মূলত দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সরবরাহকারীদের কাছ থেকেই চামড়া কেনা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক ও সমতা লেদারের মালিক মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ বছর প্রায় ১ কোটি পিস কোরবানির চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।