ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

বিরল অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কোরবানির তালিকা থেকে বাদ, স্থান হচ্ছে চিড়িয়াখানায়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল হওয়া বিরল অ্যালবিনো মহিষটিকে শেষ পর্যন্ত কোরবানির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ প্রাণীটিকে সংরক্ষণের জন্য জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্রেতাকে পশুটির ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে এবং তার জন্য বিকল্প একটি গরুর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘অ্যালবিনো’ শব্দটি। বিরল এই জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই মহিষটি নিয়ে তৈরি হয় কৌতূহল, আলোচনা ও বিতর্ক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনিজম হলো একটি জেনেটিক অবস্থা, যেখানে প্রাণীর শরীরে ‘মেলানিন’ নামের রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন খুব কম বা একেবারেই অনুপস্থিত থাকে। এই মেলানিনই চামড়া, লোম ও চোখের স্বাভাবিক রং নির্ধারণ করে। মেলানিনের অভাবে প্রাণীর শরীর ফ্যাকাশে বা সাদা-গোলাপি রং ধারণ করে। অনেক ক্ষেত্রে চোখও লালচে বা হালকা গোলাপি দেখা যায়, যা আলোর প্রতিফলনের কারণে আরও স্পষ্ট হয়।

জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণী অত্যন্ত বিরল। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে এটি খুবই কম দেখা যায়। কিছু ধারণা অনুযায়ী, হাজার বা দশ হাজারে একটি ক্ষেত্রে এমন বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে। তবে অনেক অ্যালবিনো প্রাণী বন্য পরিবেশে টিকে থাকতে না পারায় প্রকৃত সংখ্যা আরও কম হতে পারে বলেও গবেষকদের মত।

অ্যালবিনো প্রাণী শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, বরং জীববৈচিত্র্য ও জেনেটিক গবেষণার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রাণীর মাধ্যমে জিনগত পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক অভিযোজন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এমন বিরল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণী সাধারণ কোরবানির প্রক্রিয়ায় ব্যবহার না করে সংরক্ষণ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। এতে প্রাণীটি রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি গবেষণা ও প্রদর্শনীর সুযোগও তৈরি হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

বিরল অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কোরবানির তালিকা থেকে বাদ, স্থান হচ্ছে চিড়িয়াখানায়

আপডেট সময় : ০২:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল হওয়া বিরল অ্যালবিনো মহিষটিকে শেষ পর্যন্ত কোরবানির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ প্রাণীটিকে সংরক্ষণের জন্য জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্রেতাকে পশুটির ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে এবং তার জন্য বিকল্প একটি গরুর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘অ্যালবিনো’ শব্দটি। বিরল এই জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই মহিষটি নিয়ে তৈরি হয় কৌতূহল, আলোচনা ও বিতর্ক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনিজম হলো একটি জেনেটিক অবস্থা, যেখানে প্রাণীর শরীরে ‘মেলানিন’ নামের রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন খুব কম বা একেবারেই অনুপস্থিত থাকে। এই মেলানিনই চামড়া, লোম ও চোখের স্বাভাবিক রং নির্ধারণ করে। মেলানিনের অভাবে প্রাণীর শরীর ফ্যাকাশে বা সাদা-গোলাপি রং ধারণ করে। অনেক ক্ষেত্রে চোখও লালচে বা হালকা গোলাপি দেখা যায়, যা আলোর প্রতিফলনের কারণে আরও স্পষ্ট হয়।

জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণী অত্যন্ত বিরল। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে এটি খুবই কম দেখা যায়। কিছু ধারণা অনুযায়ী, হাজার বা দশ হাজারে একটি ক্ষেত্রে এমন বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে। তবে অনেক অ্যালবিনো প্রাণী বন্য পরিবেশে টিকে থাকতে না পারায় প্রকৃত সংখ্যা আরও কম হতে পারে বলেও গবেষকদের মত।

অ্যালবিনো প্রাণী শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, বরং জীববৈচিত্র্য ও জেনেটিক গবেষণার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রাণীর মাধ্যমে জিনগত পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক অভিযোজন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এমন বিরল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণী সাধারণ কোরবানির প্রক্রিয়ায় ব্যবহার না করে সংরক্ষণ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। এতে প্রাণীটি রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি গবেষণা ও প্রদর্শনীর সুযোগও তৈরি হয়।