কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সংগৃহীত পশুর চামড়া প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এতিমখানা, মাদ্রাসা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হলেও, এবারেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাঁচা চামড়া অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষ চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ।
সরকার গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ালেও, বাস্তবে বিক্রেতারা সেই দামে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দাম পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাগলের চামড়ার সংকট আরও বেশি তীব্র। কিছু এলাকায় ছাগলের চামড়া মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আবার অনেক জায়গায় বিনামূল্যেও কেউ নিতে চায়নি।
রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, কলাবাগান, শ্যামলী, মালিবাগ, মোহাম্মদপুর এবং হাজারীবাগ এলাকার অস্থায়ী চামড়া সংগ্রহ কেন্দ্রগুলোতে শত শত কাঁচা চামড়া স্তূপ করে রাখা হয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করার জন্য পিকআপ, অটোরিকশা, ভ্যান ও রিকশায় করে এনে অপেক্ষা করছেন। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। মানিকনগর বিশ্বরোড সংলগ্ন এলাকায় মসজিদের সামনেও চামড়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে। জানা গেছে, ট্যানারি মালিকরা চামড়ার দাম কম বলার কারণে সংগৃহীত চামড়া সাভারে নিয়ে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
বলিয়ারপুর এলাকা থেকে ৩০ পিস চামড়া নিয়ে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী পরেশ জানান, “৭০০ টাকা দরে যে চামড়া কিনেছি, আড়তে এসে সেই চামড়ার দাম বলছে ৬০০ টাকা। লাভ তো দূরে থাক, গাড়ি ভাড়ার টাকাও পকেট থেকে যাবে।” সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে চামড়া কিনে সায়েন্সল্যাবে আসা রতন ব্যাপারী এবং মোহাম্মদ রাসেল জানান, তারা প্রতিটি চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে কিনেছিলেন। কিন্তু বাজারে এসে ৫০০ টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না। রতন ব্যাপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে ফেলা হচ্ছে। আমরা ৭০০ টাকা পর্যন্ত দরে কিনে এনেছি, এখন ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে বলছে।” একই অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান, যিনি প্রায় ৪ লাখ টাকার চামড়া এনেছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















