রাজধানীর পল্লবীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর শত শত পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল আজহার প্রস্তুতির মাঝে তাদের সব কেড়ে নিয়েছে আগুন, ফলে তাদের ঈদের আনন্দ এখন কান্নায় পরিণত হয়েছে।
বকুলা বেগম নামে এক বস্তিবাসী জানান, সাত বছর ধরে তারা এই বস্তিতে বসবাস করছেন। অগ্নিকাণ্ডে তার সব পুড়ে গেছে। বিধবা ভাতার টাকা সংগ্রহ করে রেখেছিলেন, তাও রক্ষা করা যায়নি। এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, ঈদের সময় বাসায় বাসায় গিয়ে মাংস টুকাই। ওই মাংস দিয়ে দুই দিন ভালোভাবে খাই। এবার সব শেষ। মাংস এনে রান্না করবো কোথায়? মাথার ওপর কোনো ছাদ নেই। আমাদের ঈদ এবার খোলা আকাশের নিচে।’
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্তরা পোড়া ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা টিন, কাঠ, কাপড় ও ভাঙাচোরা জিনিসপত্র থেকে কিছু উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ পোড়া জিনিসপত্র কুড়িয়ে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত মো. নবাব জানান, আগুনের লেলিহান শিখা তার ১৫টি ঘর ও একটি মুদি দোকান কেড়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই শহরে ২০ বছর ধরে যা উপার্জন করেছি, সব এক আগুনে শেষ। দোকানে কয়েক লাখ টাকার মাল ছিল, সব পুড়ে গেছে।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রতি বছর কোরবানি দেই। কয়েকজন মিলে আজ গরু আনার কথা ছিল। কিন্তু এখন থাকার জায়গাই নেই। ঈদের দিন রাস্তায় ঘুমাইতে হবে। আমাদের এবারের ঈদ নেই।’
আমেনা বেগম নামে আরেক নারী জানান, আগুন লাগার সময় তিনি বাসায় ছিলেন। ছোট ছেলের ফোনে দোকানে আগুন লাগার খবর পেয়ে এসে দেখেন সব শেষ। কিছুই বের করতে পারেননি। লাল মিয়া নামে আরেক দোকানি জানান, তার প্লাস্টিকের দোকানে ৫০ লাখ টাকার বেশি মালামাল ছিল। নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন, এর মধ্যেই আগুন লাগে। ফিরে এসে দেখেন দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















