ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘জুলাইযোদ্ধা’কে নির্যাতনের অভিযোগে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলমকে মারধর এবং নির্যাতনের অভিযোগ এনে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের দশজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম নিজেই বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুজ্জামানের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনা তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী ইলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই মামলায় আসামিরা হলেন ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, কর্মকর্তা সাইদুর রহমান শাহিদ, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, ফাতেমা আফরিন পায়েল, আলিফ, জাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ শ্রাবন্তী এবং সোনিয়া আক্তার লুবনা।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীর আলম বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী এবং ‘জুলাইযোদ্ধা’। তিনি গত বছরের ১৮ জুলাই কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন বা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

এই সূত্র ধরেই চলতি বছরের ২৭ মে দুপুরে জাহাঙ্গীর আলম কিছু অনুদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে জুলাই ফাউন্ডেশনের অফিসে গিয়েছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, সেখানে আসামিদের সাথে দেখা হলে তারা তাকে একটি অন্ধকার ঘরে নিয়ে মারধর করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফেরার পর তার ওপর আবার নির্যাতন চালানো হয় এবং তিনি যেন নিজেকে ‘ভুয়া জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকার করেন, সেজন্য চাপ দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তার ফেসবুক পোস্ট এবং বিভিন্ন ছবি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিশেষ করে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার ছবি তোলার কারণ জানতে চাওয়া হয়। এরপর তার হাতে কোনো একটি ইনজেকশন পুশ করে তাকে রাস্তার ওপর অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে জাহাঙ্গীর আলম নারায়ণগঞ্জের খানপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাকান আর্মির প্রধানের অভিনন্দন, নতুন বন্ধুত্বের বার্তা

‘জুলাইযোদ্ধা’কে নির্যাতনের অভিযোগে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলমকে মারধর এবং নির্যাতনের অভিযোগ এনে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের দশজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম নিজেই বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুজ্জামানের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনা তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী ইলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই মামলায় আসামিরা হলেন ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, কর্মকর্তা সাইদুর রহমান শাহিদ, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, ফাতেমা আফরিন পায়েল, আলিফ, জাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ শ্রাবন্তী এবং সোনিয়া আক্তার লুবনা।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীর আলম বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী এবং ‘জুলাইযোদ্ধা’। তিনি গত বছরের ১৮ জুলাই কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন বা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

এই সূত্র ধরেই চলতি বছরের ২৭ মে দুপুরে জাহাঙ্গীর আলম কিছু অনুদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে জুলাই ফাউন্ডেশনের অফিসে গিয়েছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, সেখানে আসামিদের সাথে দেখা হলে তারা তাকে একটি অন্ধকার ঘরে নিয়ে মারধর করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফেরার পর তার ওপর আবার নির্যাতন চালানো হয় এবং তিনি যেন নিজেকে ‘ভুয়া জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকার করেন, সেজন্য চাপ দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তার ফেসবুক পোস্ট এবং বিভিন্ন ছবি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিশেষ করে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার ছবি তোলার কারণ জানতে চাওয়া হয়। এরপর তার হাতে কোনো একটি ইনজেকশন পুশ করে তাকে রাস্তার ওপর অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে জাহাঙ্গীর আলম নারায়ণগঞ্জের খানপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।