ঈদ উপলক্ষে প্রাপ্ত উৎসব বোনাস এবং সেই টাকায় করা বিভিন্ন খরচ আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করার প্রয়োজন হতে পারে। অনেক করদাতা জানেন না যে, উৎসব বোনাস বা উৎসব ভাতাও আয় হিসেবে গণ্য হয় এবং তা আয়কর রিটার্নে দেখানো বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, ঈদ উপলক্ষে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, সেই তথ্যও জীবনযাত্রার ব্যয়ের অংশ হিসেবে আয়কর নথিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হতে পারে।
কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল বেতনের বাইরে উৎসব বোনাস, বৈশাখী ভাতা, ইনসেনটিভ, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধা আয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এই তথ্যগুলো গোপন করা বা বাদ দেওয়া উচিত নয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বর্তমানে করদাতার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাইয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করছে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য চাকরিজীবী ঈদ উপলক্ষে উৎসব বোনাস পেয়ে থাকেন। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত নিয়মে উৎসব ভাতা দেওয়া হয়, একইভাবে বেসরকারি খাতের কর্মীরাও প্রতিষ্ঠানভেদে ঈদ বোনাস পান। অনেকে বিশেষ পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেও অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পান। কর কর্মকর্তারা মনে করেন, একজন ব্যক্তি বছরে যত আয় করেন, তার সবকিছুই আয়কর রিটার্নে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। বোনাসের টাকা ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় তা নথিভুক্ত থাকে এবং ভবিষ্যতে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য দেখা দিলে কর কর্মকর্তাদের প্রশ্নের মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আয় দেখানোই যথেষ্ট নয়। একজন করদাতা বছরে কী পরিমাণ খরচ করছেন, সেটিও আয়কর রিটার্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঈদ উপলক্ষে পোশাক কেনা, আত্মীয়স্বজনকে উপহার দেওয়া, কোরবানির পশু কেনা, ভ্রমণ, দাওয়াত, ঘর সাজানো বা অন্যান্য উৎসব ব্যয়—সবকিছুই জীবনযাত্রার খরচের অন্তর্ভুক্ত। আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জমা দেওয়া আইটি-১০বি ফরমে জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হয়, যেখানে ‘উৎসব ও অন্যান্য’ ব্যয়ের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
রিপোর্টারের নাম 

























