ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে রাজধানী ছাড়িয়ে। কর্মচঞ্চল ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। এই সুযোগে চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ বাড়ার আশঙ্কায় নগরবাসী। বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মনে উদ্বেগ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঈদের ছুটিতে রাজধানীর নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে অধিকাংশ পুলিশ সদস্য এবার ঈদের ছুটি পাননি।
প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। ফাঁকা বাসাবাড়ি, আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো দুই হাজারের বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। অপরাধের ধরন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, “নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি টহল পার্টি ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।” তিনি আরও জানান, ডিএমপিতে কর্মরত ৩২ হাজারের বেশি সদস্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সদস্য ঈদের ছুটি পেয়েছেন, অর্থাৎ ২৭ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য ছুটি পাননি।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং জোরদার করা হয়েছে। ব্যাংক, এটিএম বুথসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। কোথাও কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















