পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা, বিশেষ করে বড়স্টেশন মোলহেড এলাকা পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষেরা এই মনোরম স্থানটিতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। পরিবার, বন্ধু এবং স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে দর্শনার্থীরা এখানে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
চাঁদপুর ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকদের উপস্থিতিতে বড়স্টেশন মোলহেড এলাকা সরগরম হয়ে উঠেছে। অনেকে নদীর তীরে বসে আড্ডা দিচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ট্রলার বা নৌকায় করে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বালুচর ঘুরে আসছেন। স্থানীয়ভাবে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত এই বালুচরটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে বিকেলে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়ে। শিশুদের কোলাহল, তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দে পুরো এলাকা এক উৎসবমুখর পরিবেশ ধারণ করে। সূর্যাস্ত উপভোগ করার জন্যও এখানে অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটে।
চাঁদপুরের শাহরাস্তি থেকে আগত জিনিয়া বেগম জানান, তিনি ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বড়স্টেশন এলাকায় এসেছেন। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছে।
কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা কলেজ শিক্ষার্থী মাহিম বলেন, অনেক দিন ধরেই বড়স্টেশন মোলহেডে আসার ইচ্ছা ছিল। ঈদের ছুটিতে সেই সুযোগ হওয়ায় তিনি আনন্দিত। নদীতে ট্রলারে ভ্রমণ এবং বালুচরে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা ছিল বেশ উপভোগ্য।
এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের একাধিক টহল দল নিরলসভাবে কাজ করছে। তিন নদীর মোহনা এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও ভ্রমণ করতে পারেন।
রিপোর্টারের নাম 






















