ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

নতুন বাজেটে করের জাল বিস্তৃত, বাড়তে পারে ব্যবসার ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়ন, উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং ঋণের চাপ মোকাবিলায় কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা— প্রায় সব শ্রেণির মানুষের ওপরই নতুন করনীতির প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই বিশাল ব্যয় নির্বাহের জন্য রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এনবিআরের সম্ভাব্য রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ভ্যাট খাত থেকেই ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারের বাজেটে করজাল সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুচরা ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনা হবে, ব্যাংক লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে, বিলাসবহুল পণ্যে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে এবং ডিজিটাল কর ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি বিদেশি ঋণের সুদের ওপর কর পুনর্বহালের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত করের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ব্যবসার খরচ বাড়লে তার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। তার মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার শর্ত, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং জনগণের প্রত্যাশা— সবকিছু মিলিয়ে এবারের বাজেট প্রণয়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কমানোর বিপক্ষে মত দিয়েছেন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার কর চালুর পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই কোম্পানির ন্যূনতম করহার বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। বর্তমানে কোম্পানির মোট প্রাপ্তির ওপর ন্যূনতম করহার শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার আলোচনা চলছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এতে কার্যকর করের বোঝা বাড়বে এবং শিল্প ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে। একই সঙ্গে ই-কমার্স খাতে কমিশনের ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন তারা।

করজাল সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন উৎসে কর আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পণ্য সরবরাহের সময় প্রতি হাজার টাকায় ২ টাকা হারে উৎসে কর কাটা হবে। এই কর সংগ্রহের দায়িত্ব থাকবে ডিলার ও পরিবেশকদের ওপর। এনবিআর আশা করছে, এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়া সম্ভব হবে। ডিজিটাল ‘এ-চালান’ ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে খুচরা ব্যবসায়ীদের তথ্য সংরক্ষণ ও কর ব্যবস্থাপনা পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে ব্যবসায়ী মহল এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, লাখ লাখ খুচরা বিক্রেতাকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনা একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি নতুন কর ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে যুক্ত হবে। খাদ্যপণ্য, ওষুধ, সিমেন্ট, স্টিল এবং ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।

ভ্যাট আদায় বাড়াতে দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত থাকলেও নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ প্রতিষ্ঠান। আগামী এক বছরে এই সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে কর আদায়ের প্রক্রিয়াও আরও জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে করদাতাদের আয়, ব্যয় ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর রিটার্নের সঙ্গে যুক্ত হবে। সরকারের ধারণা, এতে কর ফাঁকি কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, অতিরিক্ত নজরদারি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ সঞ্চয়কারীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

বিদেশি ঋণের সুদের ওপর পুনরায় ২০ শতাংশ কর আরোপের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশ এটিকে কর কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, ব্যবসায়ীরা বলছেন এতে বিদেশি অর্থায়নের খরচ বেড়ে যাবে এবং বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে।

বিলাসবহুল পণ্যের ক্ষেত্রেও কর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিলাসবহুল গাড়ির ওপর অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি সম্পদ কর চালুর বিষয়েও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ— এই দুই লক্ষ্যকে সমন্বয় করেই আগামী বাজেট বাস্তবায়ন করতে হবে। কর আহরণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সেটি যেন ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমিয়ে না দেয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও কঠিন করে না তোলে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে সরকারকে। কারণ অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত করের চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘাড়েই গিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

নতুন বাজেটে করের জাল বিস্তৃত, বাড়তে পারে ব্যবসার ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম

আপডেট সময় : ১২:৪৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়ন, উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং ঋণের চাপ মোকাবিলায় কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা— প্রায় সব শ্রেণির মানুষের ওপরই নতুন করনীতির প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই বিশাল ব্যয় নির্বাহের জন্য রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এনবিআরের সম্ভাব্য রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ভ্যাট খাত থেকেই ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারের বাজেটে করজাল সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুচরা ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনা হবে, ব্যাংক লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে, বিলাসবহুল পণ্যে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে এবং ডিজিটাল কর ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি বিদেশি ঋণের সুদের ওপর কর পুনর্বহালের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত করের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ব্যবসার খরচ বাড়লে তার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। তার মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার শর্ত, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং জনগণের প্রত্যাশা— সবকিছু মিলিয়ে এবারের বাজেট প্রণয়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কমানোর বিপক্ষে মত দিয়েছেন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার কর চালুর পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই কোম্পানির ন্যূনতম করহার বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। বর্তমানে কোম্পানির মোট প্রাপ্তির ওপর ন্যূনতম করহার শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার আলোচনা চলছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এতে কার্যকর করের বোঝা বাড়বে এবং শিল্প ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে। একই সঙ্গে ই-কমার্স খাতে কমিশনের ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন তারা।

করজাল সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন উৎসে কর আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পণ্য সরবরাহের সময় প্রতি হাজার টাকায় ২ টাকা হারে উৎসে কর কাটা হবে। এই কর সংগ্রহের দায়িত্ব থাকবে ডিলার ও পরিবেশকদের ওপর। এনবিআর আশা করছে, এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়া সম্ভব হবে। ডিজিটাল ‘এ-চালান’ ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে খুচরা ব্যবসায়ীদের তথ্য সংরক্ষণ ও কর ব্যবস্থাপনা পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে ব্যবসায়ী মহল এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, লাখ লাখ খুচরা বিক্রেতাকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনা একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি নতুন কর ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে যুক্ত হবে। খাদ্যপণ্য, ওষুধ, সিমেন্ট, স্টিল এবং ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।

ভ্যাট আদায় বাড়াতে দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত থাকলেও নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ প্রতিষ্ঠান। আগামী এক বছরে এই সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে কর আদায়ের প্রক্রিয়াও আরও জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে করদাতাদের আয়, ব্যয় ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর রিটার্নের সঙ্গে যুক্ত হবে। সরকারের ধারণা, এতে কর ফাঁকি কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, অতিরিক্ত নজরদারি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ সঞ্চয়কারীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

বিদেশি ঋণের সুদের ওপর পুনরায় ২০ শতাংশ কর আরোপের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশ এটিকে কর কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, ব্যবসায়ীরা বলছেন এতে বিদেশি অর্থায়নের খরচ বেড়ে যাবে এবং বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে।

বিলাসবহুল পণ্যের ক্ষেত্রেও কর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিলাসবহুল গাড়ির ওপর অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি সম্পদ কর চালুর বিষয়েও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ— এই দুই লক্ষ্যকে সমন্বয় করেই আগামী বাজেট বাস্তবায়ন করতে হবে। কর আহরণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সেটি যেন ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমিয়ে না দেয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও কঠিন করে না তোলে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে সরকারকে। কারণ অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত করের চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘাড়েই গিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।