বাংলাদেশ আজ এক অসামান্য ব্যক্তিত্বের স্মরণে নতজানু, যিনি কেবল ইতিহাসের অংশ নন, বরং ইতিহাসকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান—এক নাম, এক প্রতীক, যা একইসঙ্গে জাতির শোক এবং অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু ব্যক্তিত্ব সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে যান; তারা কেবল ব্যক্তি থাকেন না, জাতির চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন। জিয়াউর রহমান তেমনই একজন, যাঁর জীবন সাহস, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, আর যাঁর শাহাদাত জাতির ইতিহাসে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তাই আজও এই সত্য উচ্চারিত হয়—জিয়ার তুলনা কেবল জিয়াই।
কোনো উত্তরাধিকার সূত্রে বা পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসেননি। তিনি নিজেই নিজের পথ তৈরি করেছিলেন—একজন সৈনিক হিসেবে শৃঙ্খলাবোধ দিয়ে এবং একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে। ১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে, যখন জাতি দিশেহারা ও শত্রুদের পদানত, তখন তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত স্বাধীনতার ঘোষণা পুরো জাতিকে জাগিয়ে তোলে। সেই মুহূর্তে তিনি কেবল একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন না, বরং তিনি হয়ে উঠেছিলেন একটি জাতির নবজাগরণের প্রতীক। তাঁর ভূমিকা শুধু ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তিনি ছিলেন রণাঙ্গনের সংগঠক, যুদ্ধের কৌশল নির্ধারক এবং জীবন বাজি রেখে লড়াই করা এক সাহসী যোদ্ধা। তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
স্বাধীনতার পর বিধ্বস্ত অর্থনীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশ যখন দাঁড়িয়ে ছিল, তখন জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, স্বাধীনতা কেবল একটি ভৌগোলিক ভূখণ্ডের নাম নয়, এটি সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের নাম। তাই তিনি রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসেন উৎপাদন, কৃষি, গ্রামীণ জীবন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। খাল খনন, সেচ সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে তিনি উন্নয়নকে শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে দেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ফিরিয়ে আনেন বহুদলীয় গণতন্ত্র। জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ প্রসারিত করেন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে এককেন্দ্রিকতা থেকে বের করে এনে বহু ধারার রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত থেকেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল এক বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত।
রিপোর্টারের নাম 




















