প্রচণ্ড দাবদাহের পর সাতক্ষীরায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় সাময়িক স্বস্তি দিলেও রেখে গেছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। এই ঝড়ের ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। শনিবারও প্রায় ২০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের এই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ঝড়ে জেলার ১৯২টি স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে, ২৭টি ক্রসআর্ম ভেঙে গেছে এবং দুই শতাধিক গ্রাহকের মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ২৭৫টি স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ১১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং আরও ৩৬টি খুঁটি হেলে পড়েছে। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ গ্রাহকের মধ্যে এখনো ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ও সরঞ্জাম মেরামতের জন্য কর্মীরা রাতভর কাজ করেছেন এবং একাধিক দল এখনো মাঠে সক্রিয় রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগে শ্যামনগরে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। ‘শ্যামনগরবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সরকারি নম্বরে ফোন করেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
ঝড়ে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে তালগাছ ভেঙে পড়ে শারমিন (৯) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া, উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকায় ঝড়ে বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকের ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে এবং তারা দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 























