ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

পিতার জানাজায় অংশ নিতে সাবেক এমপির সাত ঘণ্টার প্যারোল মুক্তি

পিতার শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য দিনাজপুর কারাগার থেকে সাত ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মাজহারুল ইসলাম সুজন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩০ মে) সকালে তিনি কারাগার থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাতবার নির্বাচিত ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্যই এই প্যারোলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রমতে, শনিবার বিকেল ৩টায় শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

আলহাজ দবিরুল ইসলাম ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আট নম্বর বড়বাড়ী ইউনিয়নের তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। রাজনীতির শুরুতে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ১৯৯৬ সালে সিপিবি ছেড়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে তিনি মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা পাঁচবার নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দীর্ঘদিন তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা কৃষক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং ওই বছরের ৩ অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস শেষে চলতি বছরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

পিতার জানাজায় অংশ নিতে সাবেক এমপির সাত ঘণ্টার প্যারোল মুক্তি

আপডেট সময় : ০১:০১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

পিতার শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য দিনাজপুর কারাগার থেকে সাত ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মাজহারুল ইসলাম সুজন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩০ মে) সকালে তিনি কারাগার থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাতবার নির্বাচিত ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্যই এই প্যারোলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রমতে, শনিবার বিকেল ৩টায় শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

আলহাজ দবিরুল ইসলাম ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আট নম্বর বড়বাড়ী ইউনিয়নের তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। রাজনীতির শুরুতে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ১৯৯৬ সালে সিপিবি ছেড়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে তিনি মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা পাঁচবার নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দীর্ঘদিন তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা কৃষক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং ওই বছরের ৩ অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস শেষে চলতি বছরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।