বর্তমানে ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম চড়া। গত দুই দিনে প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এখন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১২০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে, যা মাত্র তিন দিন আগেও ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
এই পরিস্থিতিতে কৃষি মন্ত্রণালয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে যে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে। এছাড়াও, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য দেশে আট হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ সংরক্ষিত আছে।
তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, তারা ভোক্তা অধিদপ্তর ও ট্যারিফ কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যেন বাজার ও মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হয়—পেঁয়াজের আসলে ঘাটতি রয়েছে, নাকি ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। বুধবারের মধ্যেই এই তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই তথ্য হাতে পাওয়ার পর যদি দেখা যায় যে সত্যিই ঘাটতি আছে, তবেই পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, কৃষি সচিবের মতে ১৫ দিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে, ফলে ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নিশ্চিত হতে কয়েকটি সংস্থাকে দিয়ে বাজার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যার প্রতিবেদন বুধবার আসবে। যদি সত্যি ঘাটতি থাকে, তবে অবশ্যই আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৬-২৭ লাখ টন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত মৌসুমে দেশে উৎপাদন হয়েছিল ৩৮ লাখ টন। কিন্তু উৎপাদন-পরবর্তী দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতি বছর উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫ শতাংশেরও বেশি নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই প্রতি বছর কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।
এদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, বর্তমানে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) চেয়ে আবেদন করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ে ইতোমধ্যেই প্রায় তিন হাজার আবেদন জমা পড়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























