ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদের দ্বিতীয় দিনে চামড়ার বাজারে দাম বৃদ্ধি, ক্রেতা সমাগম কম

কোরবানির ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকায় পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস দেখা গেছে। ঈদের দিনের তুলনায় শুক্রবার (২৯ মে) গরুর বড় ও মাঝারি আকারের চামড়ার দাম অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে। তবে ছোট আকারের গরু ও ছাগলের চামড়ার দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি।

শুক্রবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি, লালবাগ বালুর মাঠ ও পোস্তা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি আকারের গরুর প্রতিটি কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। বড় আকারের চামড়ার দাম উঠেছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঈদের দিনে একই ধরনের চামড়া বিক্রি হয়েছিল ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং বড় চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে তুলনামূলক বড় আকৃতির পশু কোরবানি হওয়ায় চামড়ার মান ভালো থাকে, ফলে বাজারে দামও কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। তবে ছোট আকারের গরুর চামড়ার বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি; এসব চামড়া ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হয়েছে, যা ঈদের দিনের দামের সমান।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার চামড়ার পাইকারি ও মৌসুমি ক্রেতার সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। দুপুরে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় দেখা যায়, আড়তদার ও ট্যানারির প্রতিনিধিদের পক্ষে মাত্র কয়েকজন ক্রেতা চামড়া সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে, রিকশা ও ভ্যানে করে মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধি এবং মৌসুমি বিক্রেতারা অল্প পরিমাণ চামড়া নিয়ে আসছেন। ঈদের দিনে যেখানে ৮-১০ জন আড়তদার ও ট্যানারি মালিক সরাসরি চামড়া কিনছিলেন, সেখানে দ্বিতীয় দিনে ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। তা সত্ত্বেও, বড় ও মাঝারি চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে।

হাজারীবাগ এলাকা থেকে তিনটি মাঝারি ও একটি ছোট আকারের চামড়া নিয়ে লালবাগ বালুর মাঠে আসা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রতিনিধি শরিফুল আলম জানান, প্রতিটি মাঝারি চামড়ার দাম ৭০০ টাকা দাবি করলেও শুরুতে আড়তদাররা কম দাম প্রস্তাব করেন। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে তিনটি মাঝারি চামড়া ২ হাজার ১০০ টাকা এবং ছোট চামড়াটি ২০০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে প্রায় ৭০টি কাঁচা চামড়া নিয়ে পোস্তায় আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. রহমান কয়েকটি আড়ত ঘুরে মাঝারি আকারের চামড়া ৭৫০ টাকা এবং ছোট চামড়া ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন। রাজধানীর পোস্তা এলাকায় ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আড়তগুলোতে কর্মীদের কাঁচা চামড়া নামানোর ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা

কোরবানির ঈদের দ্বিতীয় দিনে চামড়ার বাজারে দাম বৃদ্ধি, ক্রেতা সমাগম কম

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকায় পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস দেখা গেছে। ঈদের দিনের তুলনায় শুক্রবার (২৯ মে) গরুর বড় ও মাঝারি আকারের চামড়ার দাম অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে। তবে ছোট আকারের গরু ও ছাগলের চামড়ার দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি।

শুক্রবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি, লালবাগ বালুর মাঠ ও পোস্তা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি আকারের গরুর প্রতিটি কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। বড় আকারের চামড়ার দাম উঠেছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঈদের দিনে একই ধরনের চামড়া বিক্রি হয়েছিল ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং বড় চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে তুলনামূলক বড় আকৃতির পশু কোরবানি হওয়ায় চামড়ার মান ভালো থাকে, ফলে বাজারে দামও কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। তবে ছোট আকারের গরুর চামড়ার বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি; এসব চামড়া ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হয়েছে, যা ঈদের দিনের দামের সমান।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার চামড়ার পাইকারি ও মৌসুমি ক্রেতার সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। দুপুরে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় দেখা যায়, আড়তদার ও ট্যানারির প্রতিনিধিদের পক্ষে মাত্র কয়েকজন ক্রেতা চামড়া সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে, রিকশা ও ভ্যানে করে মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধি এবং মৌসুমি বিক্রেতারা অল্প পরিমাণ চামড়া নিয়ে আসছেন। ঈদের দিনে যেখানে ৮-১০ জন আড়তদার ও ট্যানারি মালিক সরাসরি চামড়া কিনছিলেন, সেখানে দ্বিতীয় দিনে ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। তা সত্ত্বেও, বড় ও মাঝারি চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে।

হাজারীবাগ এলাকা থেকে তিনটি মাঝারি ও একটি ছোট আকারের চামড়া নিয়ে লালবাগ বালুর মাঠে আসা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রতিনিধি শরিফুল আলম জানান, প্রতিটি মাঝারি চামড়ার দাম ৭০০ টাকা দাবি করলেও শুরুতে আড়তদাররা কম দাম প্রস্তাব করেন। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে তিনটি মাঝারি চামড়া ২ হাজার ১০০ টাকা এবং ছোট চামড়াটি ২০০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে প্রায় ৭০টি কাঁচা চামড়া নিয়ে পোস্তায় আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. রহমান কয়েকটি আড়ত ঘুরে মাঝারি আকারের চামড়া ৭৫০ টাকা এবং ছোট চামড়া ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন। রাজধানীর পোস্তা এলাকায় ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আড়তগুলোতে কর্মীদের কাঁচা চামড়া নামানোর ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো।