ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও সমঅধিকার ও সুযোগের প্রশ্নে পিছিয়ে বাংলাদেশ

গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ই-কমার্স, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবা খাতে নারীদের উপস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমঅধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। বরং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং সেসব আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘উইমেন, বিজনেস অ্যান্ড দ্য ল ২০২৬’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নারীদের অর্থনৈতিক সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৯তম স্থানে নেমে এসেছে। এক বছর আগে এই অবস্থান ছিল ১৭৬তম এবং ২০২২ সালে ছিল ১৭৩তম। অর্থাৎ, চার বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ ছয় ধাপ পিছিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত ও তালেবানশাসিত আফগানিস্তান বাংলাদেশের নিচে অবস্থান করছে।

বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদন শুধু আইন নয়, বরং নারীরা বাস্তবে কতটুকু অর্থনৈতিক সুযোগ পাচ্ছেন, ব্যবসা করতে পারছেন, সম্পদের মালিক হতে পারছেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পাচ্ছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সহায়তা করছে— এসব বিষয়ও মূল্যায়ন করে।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রয়েছে—আইনি সমতা, সহায়ক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের দুর্বলতা রয়েছে এই তিন ক্ষেত্রেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীদের জন্য আইনি কাঠামোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৩৪.৩৮, সহায়ক কাঠামোতে ৩৪.৭৩ এবং আইন বাস্তবায়নে মাত্র ২৭.৯২। এর অর্থ হলো, কাগজে-কলমে যেসব অধিকার রয়েছে, সেগুলোরও বড় অংশ বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংক বলছে, অনেক দেশে নারী-পুরুষ সমতার আইন প্রণয়ন করা হলেও সেই আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান, তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়নি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে অবস্থান ১২৯তম। এর পর রয়েছে নেপাল (১৩০), ভুটান (১৩৯), শ্রীলঙ্কা (১৫৯) এবং পাকিস্তান (১৬৩)।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াউর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও সমঅধিকার ও সুযোগের প্রশ্নে পিছিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৩:০৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ই-কমার্স, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবা খাতে নারীদের উপস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমঅধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। বরং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং সেসব আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘উইমেন, বিজনেস অ্যান্ড দ্য ল ২০২৬’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নারীদের অর্থনৈতিক সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৯তম স্থানে নেমে এসেছে। এক বছর আগে এই অবস্থান ছিল ১৭৬তম এবং ২০২২ সালে ছিল ১৭৩তম। অর্থাৎ, চার বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ ছয় ধাপ পিছিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত ও তালেবানশাসিত আফগানিস্তান বাংলাদেশের নিচে অবস্থান করছে।

বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদন শুধু আইন নয়, বরং নারীরা বাস্তবে কতটুকু অর্থনৈতিক সুযোগ পাচ্ছেন, ব্যবসা করতে পারছেন, সম্পদের মালিক হতে পারছেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পাচ্ছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সহায়তা করছে— এসব বিষয়ও মূল্যায়ন করে।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রয়েছে—আইনি সমতা, সহায়ক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের দুর্বলতা রয়েছে এই তিন ক্ষেত্রেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীদের জন্য আইনি কাঠামোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৩৪.৩৮, সহায়ক কাঠামোতে ৩৪.৭৩ এবং আইন বাস্তবায়নে মাত্র ২৭.৯২। এর অর্থ হলো, কাগজে-কলমে যেসব অধিকার রয়েছে, সেগুলোরও বড় অংশ বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংক বলছে, অনেক দেশে নারী-পুরুষ সমতার আইন প্রণয়ন করা হলেও সেই আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান, তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়নি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে অবস্থান ১২৯তম। এর পর রয়েছে নেপাল (১৩০), ভুটান (১৩৯), শ্রীলঙ্কা (১৫৯) এবং পাকিস্তান (১৬৩)।