ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বিদ্যুৎ সংকট: জ্বালানির অভাবই মূল কারণ, সমাধান কী?

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৯৪ মেগাওয়াট হলেও, চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করলেই বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট এবং লোডশেডিং শুরু হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ হলো জ্বালানির অভাব। পর্যাপ্ত গ্যাস, কয়লা ও তেল সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধি অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জ্বালানির উপর জোর দেওয়াই হবে এর সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৪২.৭৯ শতাংশ, অর্থাৎ ১২ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্যাস থেকে উৎপাদিত হয়। দেশে ব্যবহৃত গ্যাসের একটি অংশ আমদানিনির্ভর, বর্তমানে প্রতিদিন এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো, যেখানে ভারতের আদানিসহ মোট আটটি কেন্দ্র থেকে ৭ হাজার ৬২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা মোট উৎপাদনের ২৬.৭৭ শতাংশ। বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়া বাকি কেন্দ্রগুলো আমদানি করা কয়লার উপর নির্ভরশীল। ফার্নেস অয়েল (এইচএফও) ভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ৫ হাজার ৬৩৪ মেগাওয়াট বা ১৯.৭৭ শতাংশ বিদ্যুৎ আসছে। ডিজেলভিত্তিক (এইচএসডি) বিদ্যুৎ উৎপাদন ৭৬৮ মেগাওয়াট, যা মোট উৎপাদনের ২.৭০ শতাংশ। ডিজেল এবং ফার্নেস অয়েল উভয়ই আমদানি করতে হয়। এছাড়াও, ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৪.৭ শতাংশ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৭৭৭ মেগাওয়াট (২.৭৩%), জলবিদ্যুৎ থেকে ২৩০ মেগাওয়াট এবং বায়ুবিদ্যুৎ থেকে মাত্র ৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে। অন্যান্য উৎস থেকে আরও ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৪৮০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৬ হাজার ২০১ মেগাওয়াট, ফলে ২৬৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দুটি কারণে ৫৮৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সতর্কতা: আপনার প্রতিদিনের তোয়ালে অজান্তেই ডেকে আনছে বিপদ!

বিদ্যুৎ সংকট: জ্বালানির অভাবই মূল কারণ, সমাধান কী?

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৯৪ মেগাওয়াট হলেও, চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করলেই বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট এবং লোডশেডিং শুরু হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ হলো জ্বালানির অভাব। পর্যাপ্ত গ্যাস, কয়লা ও তেল সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধি অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জ্বালানির উপর জোর দেওয়াই হবে এর সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৪২.৭৯ শতাংশ, অর্থাৎ ১২ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্যাস থেকে উৎপাদিত হয়। দেশে ব্যবহৃত গ্যাসের একটি অংশ আমদানিনির্ভর, বর্তমানে প্রতিদিন এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো, যেখানে ভারতের আদানিসহ মোট আটটি কেন্দ্র থেকে ৭ হাজার ৬২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা মোট উৎপাদনের ২৬.৭৭ শতাংশ। বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়া বাকি কেন্দ্রগুলো আমদানি করা কয়লার উপর নির্ভরশীল। ফার্নেস অয়েল (এইচএফও) ভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ৫ হাজার ৬৩৪ মেগাওয়াট বা ১৯.৭৭ শতাংশ বিদ্যুৎ আসছে। ডিজেলভিত্তিক (এইচএসডি) বিদ্যুৎ উৎপাদন ৭৬৮ মেগাওয়াট, যা মোট উৎপাদনের ২.৭০ শতাংশ। ডিজেল এবং ফার্নেস অয়েল উভয়ই আমদানি করতে হয়। এছাড়াও, ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৪.৭ শতাংশ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৭৭৭ মেগাওয়াট (২.৭৩%), জলবিদ্যুৎ থেকে ২৩০ মেগাওয়াট এবং বায়ুবিদ্যুৎ থেকে মাত্র ৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে। অন্যান্য উৎস থেকে আরও ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৪৮০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৬ হাজার ২০১ মেগাওয়াট, ফলে ২৬৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দুটি কারণে ৫৮৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।