ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

আয়কর রিটার্ন দাখিলে বিলম্ব: বিপদের হাত থেকে বাঁচতে করণীয় কী?

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা গত ৩১ মার্চ শেষ হলেও, অনেক করদাতা বিভিন্ন কারণে এখনও তাদের রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, এখন রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব কিনা এবং এর জন্য কোনো বড় শাস্তি বা আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে কিনা।

বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের মতে, সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও করদাতাদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়নি। নির্দিষ্ট জরিমানা এবং সুদ পরিশোধের মাধ্যমে এখনও রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। তবে, সময়মতো রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি এনবিআর প্রায় ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করেছে, যা অনেক করদাতার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন হওয়া মানেই অতিরিক্ত কর আরোপ নয়; বরং এটি কর সম্পর্কিত তথ্যের যাচাই-বাছাইয়ের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

বর্তমানে দেশে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র প্রায় ৪২ লাখ করদাতা নিয়মিতভাবে তাদের রিটার্ন জমা দিয়েছেন। কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বিগত কয়েক বছরে ব্যাংক ঋণ, জমি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, ক্রেডিট কার্ড, সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণের জন্য টিআইএন এবং রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে অনেকেই প্রয়োজনের তাগিদে টিআইএন নিয়েছেন, কিন্তু পরবর্তীতে রিটার্ন জমা দেননি। তবে, টিআইএন নেওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে রিটার্ন জমা না দিলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সময় জটিলতার সম্মুখীন হতে হতে পারে। এমনকি পরবর্তী সময়ে রিটার্ন জমা দিতে গেলে পূর্ববর্তী বছরগুলোর ব্যাখ্যাও দিতে হতে পারে।

এই বছর থেকে প্রায় সকল ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে করদাতাকে বকেয়া করের উপর ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে, যা সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত আরোপ করা যেতে পারে। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পরিশোধ করতে হতে পারে। তবে আশার কথা হলো, করদাতারা বছরের যেকোনো সময় অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, কারণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি ৩৬৫ দিনই সক্রিয় থাকে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, রিটার্ন জমা না দিয়ে অপেক্ষা করার চেয়ে জরিমানা ও সুদ পরিশোধ করে দ্রুত রিটার্ন দাখিল করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সতর্কতা: আপনার প্রতিদিনের তোয়ালে অজান্তেই ডেকে আনছে বিপদ!

আয়কর রিটার্ন দাখিলে বিলম্ব: বিপদের হাত থেকে বাঁচতে করণীয় কী?

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা গত ৩১ মার্চ শেষ হলেও, অনেক করদাতা বিভিন্ন কারণে এখনও তাদের রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, এখন রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব কিনা এবং এর জন্য কোনো বড় শাস্তি বা আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে কিনা।

বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের মতে, সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও করদাতাদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়নি। নির্দিষ্ট জরিমানা এবং সুদ পরিশোধের মাধ্যমে এখনও রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। তবে, সময়মতো রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি এনবিআর প্রায় ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করেছে, যা অনেক করদাতার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন হওয়া মানেই অতিরিক্ত কর আরোপ নয়; বরং এটি কর সম্পর্কিত তথ্যের যাচাই-বাছাইয়ের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

বর্তমানে দেশে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র প্রায় ৪২ লাখ করদাতা নিয়মিতভাবে তাদের রিটার্ন জমা দিয়েছেন। কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বিগত কয়েক বছরে ব্যাংক ঋণ, জমি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, ক্রেডিট কার্ড, সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণের জন্য টিআইএন এবং রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে অনেকেই প্রয়োজনের তাগিদে টিআইএন নিয়েছেন, কিন্তু পরবর্তীতে রিটার্ন জমা দেননি। তবে, টিআইএন নেওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে রিটার্ন জমা না দিলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সময় জটিলতার সম্মুখীন হতে হতে পারে। এমনকি পরবর্তী সময়ে রিটার্ন জমা দিতে গেলে পূর্ববর্তী বছরগুলোর ব্যাখ্যাও দিতে হতে পারে।

এই বছর থেকে প্রায় সকল ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে করদাতাকে বকেয়া করের উপর ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে, যা সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত আরোপ করা যেতে পারে। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পরিশোধ করতে হতে পারে। তবে আশার কথা হলো, করদাতারা বছরের যেকোনো সময় অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, কারণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি ৩৬৫ দিনই সক্রিয় থাকে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, রিটার্ন জমা না দিয়ে অপেক্ষা করার চেয়ে জরিমানা ও সুদ পরিশোধ করে দ্রুত রিটার্ন দাখিল করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।