ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বৈশ্বিক উত্তেজনায় জাপানের তেল আমদানি অর্ধেকে নেমেছে

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে জাপানের অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে ইউরোপভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কেপলারের ট্যাংকার ট্র্যাকিং ডেটা ব্যবহার করা হয়েছে। এই তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে জাপানের তেল আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কমেছে।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অপরিশোধিত তেলের চালানও মার্চ-মে সময়ে ৪৮ শতাংশ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বিশ্বব্যাপী মোট তেল রপ্তানি মাত্র ১০ শতাংশ কমবে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল রপ্তানি যথাক্রমে ২৯ শতাংশ এবং ৩৩ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। কুয়েত ও ইরাকের রপ্তানি ৯০ শতাংশের বেশি কমার আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ইরানের রপ্তানি মার্চ-এপ্রিল সময়ে স্থিতিশীল থাকলেও মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ৮৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। হরমুজে কড়াকড়ির কারণে সৌদি আরব বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করছে। তবে, ইয়েমেনের বাব এল-মানদাব প্রণালিতে ইরান সমর্থিত হুথিদের উপস্থিতির কারণে এই জলপথেও জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এই তেল আমদানির পতন জাপানে সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের মার্চ-মে সময়ে দেশটি বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের একই সময়ে আমদানি কমার হারে এটি চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য জাপান যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে জাপানের ৯০ শতাংশ তেল আসত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা মে মাসে ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের অংশ ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশের বেশি হয়েছে।

তেল আমদানির এই পতন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর জাপানের ঝুঁকিপূর্ণ নির্ভরশীলতাকে স্পষ্ট করেছে। মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে টোকিও কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে। দেশটির হাতে এখনও অন্তত ২০০ দিনের বেশি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় তেল মজুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে পূর্ণমাত্রায় নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা কবে নাগাদ ফিরে আসবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা

বৈশ্বিক উত্তেজনায় জাপানের তেল আমদানি অর্ধেকে নেমেছে

আপডেট সময় : ০১:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে জাপানের অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে ইউরোপভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কেপলারের ট্যাংকার ট্র্যাকিং ডেটা ব্যবহার করা হয়েছে। এই তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে জাপানের তেল আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কমেছে।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অপরিশোধিত তেলের চালানও মার্চ-মে সময়ে ৪৮ শতাংশ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বিশ্বব্যাপী মোট তেল রপ্তানি মাত্র ১০ শতাংশ কমবে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল রপ্তানি যথাক্রমে ২৯ শতাংশ এবং ৩৩ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। কুয়েত ও ইরাকের রপ্তানি ৯০ শতাংশের বেশি কমার আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ইরানের রপ্তানি মার্চ-এপ্রিল সময়ে স্থিতিশীল থাকলেও মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ৮৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। হরমুজে কড়াকড়ির কারণে সৌদি আরব বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করছে। তবে, ইয়েমেনের বাব এল-মানদাব প্রণালিতে ইরান সমর্থিত হুথিদের উপস্থিতির কারণে এই জলপথেও জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এই তেল আমদানির পতন জাপানে সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের মার্চ-মে সময়ে দেশটি বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের একই সময়ে আমদানি কমার হারে এটি চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য জাপান যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে জাপানের ৯০ শতাংশ তেল আসত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা মে মাসে ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের অংশ ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশের বেশি হয়েছে।

তেল আমদানির এই পতন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর জাপানের ঝুঁকিপূর্ণ নির্ভরশীলতাকে স্পষ্ট করেছে। মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে টোকিও কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে। দেশটির হাতে এখনও অন্তত ২০০ দিনের বেশি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় তেল মজুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে পূর্ণমাত্রায় নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা কবে নাগাদ ফিরে আসবে, তা এখনও অনিশ্চিত।