যুক্তরাষ্ট্রের ‘ট্রাম্প ট্যারিফ’ বা উচ্চ শুল্কনীতির সরাসরি প্রভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক চাপ পড়েছে। চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) টানা দুই মাস—আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই দুই মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে মাইনাস ৪.৭৫ শতাংশ এবং মাইনাস ৫.৬৬ শতাংশ। যদিও অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানিতে ২৪.৬৭ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল, তবুও সেপ্টেম্বর শেষে তিন মাসের গড় প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৭৯ শতাংশে নেমে আসে। এই তিন মাসে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৯.৯৭ বিলিয়ন ডলার।
তৈরি পোশাকে বড় ধাক্কা: কারণ কী?
উদ্যোক্তা নেতারা এই সাময়িক পতনকে বাজার নির্দেশক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানিতেই এই বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব: নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অনিশ্চয়তা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে মন্দা ভাবের কারণেই রপ্তানি আয় মন্থর হয়েছে।
প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি: তিনি আরও যোগ করেন, ভারত ও চীন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শুল্কের মুখে পড়ায় তারা ইউরোপীয় বাজারে রপ্তানি বাড়াতে পারে। এতে প্রতিযোগিতা বাড়লেও, এটি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি করতে পারে।
শুল্ক কার্যকর: তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, জুলাইয়ে ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার আগে ক্রেতারা আগেভাগে পণ্য সংগ্রহ করায় ওই মাসে রপ্তানি বেড়েছিল। কিন্তু আগস্ট থেকে বাড়তি শুল্ক কার্যকর হওয়ায় পণ্যের দাম বেড়েছে, বিক্রি কমেছে এবং নতুন কার্যাদেশ আসা কমে যাওয়ায় রপ্তানিও কমে গেছে।
উদ্যোক্তাদের আশা
ব্যবসায়ী নেতারা এই পতনকে ‘সাময়িক’ হিসেবে দেখছেন এবং আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ফজলুল হক মনে করেন, প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নামা ব্যবসার স্বাভাবিক ওঠানামার অংশ এবং এক-দুই মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। মহিউদ্দিন রুবেলও মনে করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট পর্ব চলছে, যা স্বাভাবিক হলে কার্যাদেশ আবার বাড়বে এবং বাংলাদেশ সেই সুবিধা পাবে।
এছাড়া, ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে তৈরি পোশাকের মন্দা মৌসুম চলছে। আগামী এক-দুই মাস পর রপ্তানি আয় আবার বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।
রিপোর্টারের নাম 
























