ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘রাতের ভোটকেও হার মানিয়েছে’: বিসিবি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রেদুয়ান

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান, যিনি জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে ঢাকা বিভাগের পরিচালক পদপ্রার্থী ছিলেন। নির্বাচন বর্জনের এই সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এবারের বিসিবি নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ‘রাতের ভোট’কেও হার মানিয়ে ফেলেছে।

আজ বিকেলে বিসিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান রেদুয়ান। তিনি বলেন, “রাতের ভোট তো… তবু তো ওরা ব্যালট বাক্স ভরেছে, সেটা আলাদা জিনিস। এরা তো সুকৌশলে এমন কাজ করছে, সেটা (রাতের) ব্যালট বাক্সকেও হার মানিয়ে ফেলছে।”

১ অক্টোবর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। এরপর রেদুয়ানসহ এ নিয়ে মোট চারজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন। এর আগে সরে দাঁড়ানো অন্য প্রার্থীরা হলেন ক্যাটাগরি-২ থেকে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কাউন্সিলর লুতফর রহমান, কাঁঠালবাগান গ্রিনক্রিসেন্টের মেজর ইমরোজ এবং রাজশাহী বিভাগের পরিচালক প্রার্থী হাসিবুল আলম। তবে নির্ধারিত দিনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় আগামীকালের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের ব্যালট পেপারে তাঁদের নাম থাকবে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আমিনুল ও নাজমূল
ঢাকা বিভাগ থেকে পরিচালক পদে রেদুয়ানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন বিসিবির বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন। রেদুয়ান সরে দাঁড়ানোয় এই দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেলেন।

রেদুয়ান অবশ্য ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে আমিনুল এবং ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে নাজমূলের কাউন্সিলর হওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে জড়িত না থেকেও তাঁরা শেষ মুহূর্তে বিসিবি নির্বাচনের জন্য অ্যাডহক কমিটির সদস্য হয়েছেন।

ই-ব্যালট নিয়ে আপত্তি
নির্বাচনে ই-ব্যালটে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন রেদুয়ান। তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একাধিকবার দেখা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি দরখাস্তও দিতে চেয়েছিলাম যে, ই-ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট শুধু তাঁদেরকেই দেবেন, যাঁরা দেশের বাইরে অথবা হাসপাতালে রোগী হিসেবে আছেন। যাঁরা সুস্থ, যাঁরা ঘুরেফিরে খাচ্ছেন, যাঁরা কাউন্সিলর হয়েছেন, যাঁরা হোটেলে বসে আমোদ-ফুর্তি করছেন, তাঁরা কেন ই-ব্যালটে ভোট দেবেন?”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে আমাদের কৌশলগত ভবিষ্যৎ

‘রাতের ভোটকেও হার মানিয়েছে’: বিসিবি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রেদুয়ান

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান, যিনি জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে ঢাকা বিভাগের পরিচালক পদপ্রার্থী ছিলেন। নির্বাচন বর্জনের এই সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এবারের বিসিবি নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ‘রাতের ভোট’কেও হার মানিয়ে ফেলেছে।

আজ বিকেলে বিসিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান রেদুয়ান। তিনি বলেন, “রাতের ভোট তো… তবু তো ওরা ব্যালট বাক্স ভরেছে, সেটা আলাদা জিনিস। এরা তো সুকৌশলে এমন কাজ করছে, সেটা (রাতের) ব্যালট বাক্সকেও হার মানিয়ে ফেলছে।”

১ অক্টোবর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। এরপর রেদুয়ানসহ এ নিয়ে মোট চারজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন। এর আগে সরে দাঁড়ানো অন্য প্রার্থীরা হলেন ক্যাটাগরি-২ থেকে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কাউন্সিলর লুতফর রহমান, কাঁঠালবাগান গ্রিনক্রিসেন্টের মেজর ইমরোজ এবং রাজশাহী বিভাগের পরিচালক প্রার্থী হাসিবুল আলম। তবে নির্ধারিত দিনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় আগামীকালের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের ব্যালট পেপারে তাঁদের নাম থাকবে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আমিনুল ও নাজমূল
ঢাকা বিভাগ থেকে পরিচালক পদে রেদুয়ানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন বিসিবির বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন। রেদুয়ান সরে দাঁড়ানোয় এই দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেলেন।

রেদুয়ান অবশ্য ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে আমিনুল এবং ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে নাজমূলের কাউন্সিলর হওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে জড়িত না থেকেও তাঁরা শেষ মুহূর্তে বিসিবি নির্বাচনের জন্য অ্যাডহক কমিটির সদস্য হয়েছেন।

ই-ব্যালট নিয়ে আপত্তি
নির্বাচনে ই-ব্যালটে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন রেদুয়ান। তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একাধিকবার দেখা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি দরখাস্তও দিতে চেয়েছিলাম যে, ই-ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট শুধু তাঁদেরকেই দেবেন, যাঁরা দেশের বাইরে অথবা হাসপাতালে রোগী হিসেবে আছেন। যাঁরা সুস্থ, যাঁরা ঘুরেফিরে খাচ্ছেন, যাঁরা কাউন্সিলর হয়েছেন, যাঁরা হোটেলে বসে আমোদ-ফুর্তি করছেন, তাঁরা কেন ই-ব্যালটে ভোট দেবেন?”