ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ‘অবাস্তব’ শর্ত বাতিলের দাবি বায়রার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর জন্য সম্প্রতি যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে বায়রার নেতারা এই শর্তগুলোকে ‘অযৌক্তিক’, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে তারা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

এই স্মারকলিপিতে সই করেছেন বায়রার সাবেক সভাপতি এম এইচ সেলিম, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রিয়াজ-উল-ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, আকবর হোসেন মঞ্জু, নির্বাহী সদস্য হক জহিরুল জো, কামাল উদ্দিন এবং ক্রীড়া, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক সচিব রেহেনা পারভীন।

এর আগে বুধবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মালয়েশিয়ার দেওয়া ১০টি শর্ত যারা পূরণ করতে পারবে, দেশের সেসব রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ অনুরোধ জানাবে। এইজন্য শর্ত পূরণে সক্ষম এমন সব এজেন্সিকে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—১০ হাজার বর্গফুটের অফিস, পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা, পাঁচ বছরে তিন হাজার কর্মী পাঠানোর রেকর্ড, তিন বছর ধরে ব্যবসা চালানো, পাঁচজন নিয়োগকর্তার প্রশংসাপত্র এবং নিজের নামে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকার মতো বিষয়।

মন্ত্রণালয়ের সেই বিজ্ঞপ্তির প্রতিক্রিয়ায় বায়রার স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত প্রতিটি শর্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ষড়যন্ত্রমূলক, অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য।’

বায়রার নেতারা বলছেন, ‘মালয়েশিয়াতে আমরা ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কোনো শর্ত ছাড়াই বিভিন্ন সেক্টরে লাখ লাখ কর্মী পাঠিয়েছি। কিন্তু ২০১৭ সাল থেকেই শুরু হয় অবৈধ সিন্ডিকেট, বৈষম্য, শোষণ আর হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট।’ তারা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সি সরকারের সব শর্ত পূরণ করেই লাইসেন্স পেয়েছে। আমরা সারা বিশ্বেই কর্মী পাঠাই। অন্য কোনো দেশ কখনো এমন শর্ত দেয়নি।’

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ‘কোভিড মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট, অনেক এজেন্সির সৌদি দূতাবাসে তালিকাভুক্ত না থাকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ইরাক, লিবিয়া, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো বন্ধ থাকার কারণে বেশিরভাগ রিক্রুটিং এজেন্সি গত ৫-৬ বছরে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক শ্রমিক পাঠাতে পারেনি।’

‘শর্ত অনুযায়ী টানা ৩ বছর ১০ হাজার বর্গফুটের অফিস চালানো এবং বায়রার সম্মিলিত ট্রেনিং সেন্টার থাকার পরেও ব্যক্তিগত ট্রেনিং সেন্টারের শর্ত দেওয়াটা অবাস্তব ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এটা বাস্তবসম্মত নয়, বরং এটা অভিবাসন ব্যয় বাড়ানোর একটা হাতিয়ার।’

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ার ‘সি’ লাইসেন্সধারী ‘একজনেরও’ ১০ হাজার বর্গফুটের অফিস নেই। এমনকি নেপাল, পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার, ফিলিপাইনস বা ইন্দোনেশিয়ার মতো শ্রমিক সরবরাহকারী কোনো দেশেই ১০ হাজার বর্গফুটের অফিসের শর্ত নেই।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ‘অবাস্তব’ শর্ত বাতিলের দাবি বায়রার

আপডেট সময় : ০৯:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর জন্য সম্প্রতি যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে বায়রার নেতারা এই শর্তগুলোকে ‘অযৌক্তিক’, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে তারা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

এই স্মারকলিপিতে সই করেছেন বায়রার সাবেক সভাপতি এম এইচ সেলিম, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রিয়াজ-উল-ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, আকবর হোসেন মঞ্জু, নির্বাহী সদস্য হক জহিরুল জো, কামাল উদ্দিন এবং ক্রীড়া, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক সচিব রেহেনা পারভীন।

এর আগে বুধবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মালয়েশিয়ার দেওয়া ১০টি শর্ত যারা পূরণ করতে পারবে, দেশের সেসব রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ অনুরোধ জানাবে। এইজন্য শর্ত পূরণে সক্ষম এমন সব এজেন্সিকে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—১০ হাজার বর্গফুটের অফিস, পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা, পাঁচ বছরে তিন হাজার কর্মী পাঠানোর রেকর্ড, তিন বছর ধরে ব্যবসা চালানো, পাঁচজন নিয়োগকর্তার প্রশংসাপত্র এবং নিজের নামে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকার মতো বিষয়।

মন্ত্রণালয়ের সেই বিজ্ঞপ্তির প্রতিক্রিয়ায় বায়রার স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত প্রতিটি শর্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ষড়যন্ত্রমূলক, অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য।’

বায়রার নেতারা বলছেন, ‘মালয়েশিয়াতে আমরা ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কোনো শর্ত ছাড়াই বিভিন্ন সেক্টরে লাখ লাখ কর্মী পাঠিয়েছি। কিন্তু ২০১৭ সাল থেকেই শুরু হয় অবৈধ সিন্ডিকেট, বৈষম্য, শোষণ আর হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট।’ তারা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সি সরকারের সব শর্ত পূরণ করেই লাইসেন্স পেয়েছে। আমরা সারা বিশ্বেই কর্মী পাঠাই। অন্য কোনো দেশ কখনো এমন শর্ত দেয়নি।’

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ‘কোভিড মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট, অনেক এজেন্সির সৌদি দূতাবাসে তালিকাভুক্ত না থাকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ইরাক, লিবিয়া, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো বন্ধ থাকার কারণে বেশিরভাগ রিক্রুটিং এজেন্সি গত ৫-৬ বছরে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক শ্রমিক পাঠাতে পারেনি।’

‘শর্ত অনুযায়ী টানা ৩ বছর ১০ হাজার বর্গফুটের অফিস চালানো এবং বায়রার সম্মিলিত ট্রেনিং সেন্টার থাকার পরেও ব্যক্তিগত ট্রেনিং সেন্টারের শর্ত দেওয়াটা অবাস্তব ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এটা বাস্তবসম্মত নয়, বরং এটা অভিবাসন ব্যয় বাড়ানোর একটা হাতিয়ার।’

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ার ‘সি’ লাইসেন্সধারী ‘একজনেরও’ ১০ হাজার বর্গফুটের অফিস নেই। এমনকি নেপাল, পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার, ফিলিপাইনস বা ইন্দোনেশিয়ার মতো শ্রমিক সরবরাহকারী কোনো দেশেই ১০ হাজার বর্গফুটের অফিসের শর্ত নেই।