পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১ হাজার ৮৯০ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছে এবং ৪৮৩ জন নিহত হয়েছে। একই সময়ে ৫৮০টি শিশু ধর্ষণ এবং ৩১৮টি শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। বিগত পাঁচ বছরের (২০২১–২০২৫) হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৪৪৯টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ১২১টি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু লোমহর্ষক ঘটনা দেশবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে; যার মধ্যে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তার, ১৬ মে মুন্সিগঞ্জে ১০ বছরের আছিয়া আক্তার, ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ বছরের লামিয়া আক্তার এবং ৬ মে সিলেটে ৪ বছরের ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে শ্বাসরোধ ও শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ঢাকার বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার শিশু ধর্ষণসংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কেবল এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার ৫০টি থানায় ২১৪টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ মামলার বিপরীতে বিচার প্রাপ্তিতে চরম দীর্ঘসূত্রতা দেখা যাচ্ছে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী এই বিলম্বের পেছনে দুটি প্রধান আইনি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন—প্রথমত, পুলিশের তদন্তে বিলম্বের কারণে সময়মতো চার্জশিট বা রিপোর্ট জমা না পড়া এবং দ্বিতীয়ত, আদালতে সাক্ষীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারা।
তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পল্লবীর রামিসা হত্যা মামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিলের আশ্বাস দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগ নয়, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সামাজিক প্রতিরোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের জাগরণ এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টারের নাম 

























