ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফেরা জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার চালু হতে যাওয়া জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এই পরীক্ষা আগামী ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার নির্বাহী কমিটির সভাপতি বি এম আব্দুল হান্নানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশোধিত রুটিন অনুযায়ী, ২৮ ডিসেম্বর বাংলা, ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি, ৩০ ডিসেম্বর গণিত এবং ৩১ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।

এর আগে যে সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল, তাতে ২১ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৪ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। সে সময় ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি ফল প্রকাশের সিদ্ধান্তও ছিল। তবে, নতুন এই সংশোধিত সময়সূচিতে ফল প্রকাশের কোনো তারিখ জানানো হয়নি।

প্রকাশিত সূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। যেমন, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত সাতদিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই পরীক্ষার্থীদের হলে গিয়ে আসনে বসতে হবে এবং প্রশ্নপত্রে উল্লেখ করা সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের তাদের উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফর্মে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি ঠিকভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। কোনোভাবেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। তবে কেন্দ্রসচিব ছাড়া আর কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে ঢুকতে পারবেন না।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, এই জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার জন্য অনলাইনে ফরম পূরণ শুরু হয়েছিল গত ৫ অক্টোবর, যা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলে। আর সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১২ অক্টোবর।

প্রশ্নপত্র बांटा এবং যাচাই-বাছাইয়ের কাজ ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপর ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে জেলা প্রশাসকদের প্রতিনিধিদের কাছে প্রশ্নপত্র হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের জুনিয়র বৃত্তি দেওয়া হবে—ট্যালেন্টপুল এবং সাধারণ বৃত্তি। মোট চারটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত—এই তিনটি বিষয়ে ১০০ করে মোট ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। আর বিজ্ঞান (৫০) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (৫০) মিলিয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। সব মিলিয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ৩ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবে।

জুনিয়র বৃত্তির নীতিমালা বলছে, মাধ্যমিক বা নিম্নমাধ্যমিক স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছেন এমন সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে (এটি সপ্তম শ্রেণির সব প্রান্তিকের মূল্যায়নের ফলের ওপর ভিত্তি করে ঠিক করা হবে)। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি চাইলে এই সংখ্যা সময়ে সময়ে পরিবর্তন করতে পারবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাকান আর্মির প্রধানের অভিনন্দন, নতুন বন্ধুত্বের বার্তা

দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফেরা জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন

আপডেট সময় : ০৮:১২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার চালু হতে যাওয়া জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এই পরীক্ষা আগামী ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার নির্বাহী কমিটির সভাপতি বি এম আব্দুল হান্নানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশোধিত রুটিন অনুযায়ী, ২৮ ডিসেম্বর বাংলা, ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি, ৩০ ডিসেম্বর গণিত এবং ৩১ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।

এর আগে যে সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল, তাতে ২১ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৪ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। সে সময় ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি ফল প্রকাশের সিদ্ধান্তও ছিল। তবে, নতুন এই সংশোধিত সময়সূচিতে ফল প্রকাশের কোনো তারিখ জানানো হয়নি।

প্রকাশিত সূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। যেমন, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত সাতদিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই পরীক্ষার্থীদের হলে গিয়ে আসনে বসতে হবে এবং প্রশ্নপত্রে উল্লেখ করা সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের তাদের উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফর্মে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি ঠিকভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। কোনোভাবেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। তবে কেন্দ্রসচিব ছাড়া আর কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে ঢুকতে পারবেন না।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, এই জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার জন্য অনলাইনে ফরম পূরণ শুরু হয়েছিল গত ৫ অক্টোবর, যা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলে। আর সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১২ অক্টোবর।

প্রশ্নপত্র बांटा এবং যাচাই-বাছাইয়ের কাজ ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপর ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে জেলা প্রশাসকদের প্রতিনিধিদের কাছে প্রশ্নপত্র হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের জুনিয়র বৃত্তি দেওয়া হবে—ট্যালেন্টপুল এবং সাধারণ বৃত্তি। মোট চারটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত—এই তিনটি বিষয়ে ১০০ করে মোট ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। আর বিজ্ঞান (৫০) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (৫০) মিলিয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। সব মিলিয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ৩ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবে।

জুনিয়র বৃত্তির নীতিমালা বলছে, মাধ্যমিক বা নিম্নমাধ্যমিক স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছেন এমন সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে (এটি সপ্তম শ্রেণির সব প্রান্তিকের মূল্যায়নের ফলের ওপর ভিত্তি করে ঠিক করা হবে)। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি চাইলে এই সংখ্যা সময়ে সময়ে পরিবর্তন করতে পারবে।