ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার আদেশ বাতিল করল আদালত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রচেষ্টা শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দ্বিতীয়বারের মতো আদালতে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। বোস্টনভিত্তিক ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলস এই রায়ে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির মূল অংশে বড় আঘাত হেনেছে। এখন এই বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে হবে।

সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

তিন বিচারপতির এই বেঞ্চটি ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন অঙ্গরাজ্য ও অভিবাসী অধিকারকর্মীদের পক্ষে দেওয়া পূর্ববর্তী আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি সারা দেশে কার্যকর হতে পারেনি।

ট্রাম্পের এই আদেশটি ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার প্রথম দিন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) পিতা-মাতা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।

ফার্স্ট সার্কিটের বিচারক ডেভিড ব্যারন রায়ে বলেন, ট্রাম্পের এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিক হবেন।

তিনি বলেন, আমাদের ১০০ পৃষ্ঠার রায়ের দৈর্ঘ্য দেখে যেন কেউ না ভাবে এই প্রশ্নটি জটিল ছিল। আসলে তা নয়— হয়তো এজন্যই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সরকারের কোনো শাখা এমনভাবে আমেরিকানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অস্বীকারের চেষ্টা করেনি।

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের নিয়োগপ্রাপ্ত আরও দুই বিচারক এই মতামতে একমত হন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেছেন, আদালত ১৪তম সংশোধনী ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচার পাব বলে আশাবাদী।

এই রায়টি এসেছে বোস্টনের বিচারক লিও সরোকিন ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের বিচারক জোসেফ লাপ্লান্টের দেওয়া পূর্ববর্তী রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে। তারা এ বছর পৃথক মামলায় ট্রাম্পের আদেশ কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলস একইভাবে জাতীয় পর্যায়ে আদেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। সেই আদালতও রায়ে বলেছিল, ট্রাম্পের আদেশ ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারাকে লঙ্ঘন করছে।

ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে ওই দুটি মামলার আপিল করেছে। যদি আদালত শুনানিতে রাজি হয়, তাহলে এটি হবে দ্বিতীয়বারের মতো এই ইস্যুটি সর্বোচ্চ আদালতে ওঠা।

এর আগে জুন মাসে সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রায় দিয়ে ফেডারেল বিচারকদের ক্ষমতা সীমিত করেছিল, যাতে তারা ট্রাম্পের নীতিগুলোর ওপর জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা দিতে না পারেন।

তবে সে সময় সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আদেশটির বৈধতা নিয়ে কোনো মত দেয়নি। বরং নিচের আদালতগুলোকে নির্দেশ দেয়, তারা যেন নিষেধাজ্ঞার পরিধি পুনর্বিবেচনা করে।

এর ফলে ট্রাম্পের আদেশটি আংশিকভাবে কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও, নিম্ন আদালতগুলো বারবার নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে আদেশটি স্থগিত করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিকিমে উৎপত্তি: ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূমিকম্প

ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার আদেশ বাতিল করল আদালত

আপডেট সময় : ০২:০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রচেষ্টা শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দ্বিতীয়বারের মতো আদালতে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। বোস্টনভিত্তিক ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলস এই রায়ে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির মূল অংশে বড় আঘাত হেনেছে। এখন এই বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে হবে।

সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

তিন বিচারপতির এই বেঞ্চটি ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন অঙ্গরাজ্য ও অভিবাসী অধিকারকর্মীদের পক্ষে দেওয়া পূর্ববর্তী আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি সারা দেশে কার্যকর হতে পারেনি।

ট্রাম্পের এই আদেশটি ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার প্রথম দিন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) পিতা-মাতা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।

ফার্স্ট সার্কিটের বিচারক ডেভিড ব্যারন রায়ে বলেন, ট্রাম্পের এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিক হবেন।

তিনি বলেন, আমাদের ১০০ পৃষ্ঠার রায়ের দৈর্ঘ্য দেখে যেন কেউ না ভাবে এই প্রশ্নটি জটিল ছিল। আসলে তা নয়— হয়তো এজন্যই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সরকারের কোনো শাখা এমনভাবে আমেরিকানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অস্বীকারের চেষ্টা করেনি।

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের নিয়োগপ্রাপ্ত আরও দুই বিচারক এই মতামতে একমত হন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেছেন, আদালত ১৪তম সংশোধনী ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচার পাব বলে আশাবাদী।

এই রায়টি এসেছে বোস্টনের বিচারক লিও সরোকিন ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের বিচারক জোসেফ লাপ্লান্টের দেওয়া পূর্ববর্তী রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে। তারা এ বছর পৃথক মামলায় ট্রাম্পের আদেশ কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলস একইভাবে জাতীয় পর্যায়ে আদেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। সেই আদালতও রায়ে বলেছিল, ট্রাম্পের আদেশ ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারাকে লঙ্ঘন করছে।

ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে ওই দুটি মামলার আপিল করেছে। যদি আদালত শুনানিতে রাজি হয়, তাহলে এটি হবে দ্বিতীয়বারের মতো এই ইস্যুটি সর্বোচ্চ আদালতে ওঠা।

এর আগে জুন মাসে সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রায় দিয়ে ফেডারেল বিচারকদের ক্ষমতা সীমিত করেছিল, যাতে তারা ট্রাম্পের নীতিগুলোর ওপর জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা দিতে না পারেন।

তবে সে সময় সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আদেশটির বৈধতা নিয়ে কোনো মত দেয়নি। বরং নিচের আদালতগুলোকে নির্দেশ দেয়, তারা যেন নিষেধাজ্ঞার পরিধি পুনর্বিবেচনা করে।

এর ফলে ট্রাম্পের আদেশটি আংশিকভাবে কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও, নিম্ন আদালতগুলো বারবার নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে আদেশটি স্থগিত করেছে।