ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বিশ্ব শান্তিতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা জাতিসংঘের

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকারী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ বছর আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী দায়িত্ব পালনরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীকে সম্মান জানানো হয়েছে, যাদের মধ্যে চার হাজারেরও বেশি সদস্য বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করছেন।

প্রতি বছর ২৯ মে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় শান্তিরক্ষীদের সাহস, পেশাদারিত্ব এবং আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সংস্থাটি। একই সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে জীবন উৎসর্গ করা হাজারো শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তিরক্ষীদের কার্যক্রম প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাদের নিরলস কাজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। তারা সংঘাতকবলিত এলাকায় বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, সহিংসতা কমানো এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তিনি জানান, নিজ দেশ ও পরিবার থেকে হাজার মাইল দূরে থেকে শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের সবচেয়ে অস্থিতিশীল অঞ্চলগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছেন, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম তদারকি করছেন, নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছেন এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করতে ভূমিকা রাখছেন।

মহাসচিব অতীত ও বর্তমান সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু গত বছরই বিভিন্ন মিশনে ৫৯ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারও প্রাণহানি কাম্য নয়। শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

গুতেরেস আরও বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও আশার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি পরীক্ষিত এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী উপায়। তবে এ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ বছরের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। জাতিসংঘের মতে, শান্তিরক্ষীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

মহাসচিব বলেন, শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে কেবল বর্তমান সংকট মোকাবিলা নয়, বরং একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করা। যারা বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন, তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থন থাকা উচিত।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় শান্তিরক্ষীরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হন। তাদের সুরক্ষা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলো আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণ করা হবে।

এছাড়া কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো শান্তিরক্ষীদের মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও প্রদান করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়ের লাক্রোয়ার। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট সংশোধনের দাবি

বিশ্ব শান্তিতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা জাতিসংঘের

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকারী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ বছর আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী দায়িত্ব পালনরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীকে সম্মান জানানো হয়েছে, যাদের মধ্যে চার হাজারেরও বেশি সদস্য বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করছেন।

প্রতি বছর ২৯ মে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় শান্তিরক্ষীদের সাহস, পেশাদারিত্ব এবং আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সংস্থাটি। একই সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে জীবন উৎসর্গ করা হাজারো শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তিরক্ষীদের কার্যক্রম প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাদের নিরলস কাজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। তারা সংঘাতকবলিত এলাকায় বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, সহিংসতা কমানো এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তিনি জানান, নিজ দেশ ও পরিবার থেকে হাজার মাইল দূরে থেকে শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের সবচেয়ে অস্থিতিশীল অঞ্চলগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছেন, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম তদারকি করছেন, নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছেন এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করতে ভূমিকা রাখছেন।

মহাসচিব অতীত ও বর্তমান সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু গত বছরই বিভিন্ন মিশনে ৫৯ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারও প্রাণহানি কাম্য নয়। শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

গুতেরেস আরও বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও আশার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি পরীক্ষিত এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী উপায়। তবে এ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ বছরের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। জাতিসংঘের মতে, শান্তিরক্ষীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

মহাসচিব বলেন, শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে কেবল বর্তমান সংকট মোকাবিলা নয়, বরং একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করা। যারা বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন, তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থন থাকা উচিত।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় শান্তিরক্ষীরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হন। তাদের সুরক্ষা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলো আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণ করা হবে।

এছাড়া কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো শান্তিরক্ষীদের মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও প্রদান করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়ের লাক্রোয়ার। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।