ডায়াবেটিসের প্রধান চিকিৎসা শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস হলেও, অনেক রোগীই ডায়াবেটিক ডায়েট সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেন। এই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে, বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে, অনেকে তাদের খাদ্যতালিকা থেকে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণরূপে বাদ দিয়ে দিচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
শর্করা আমাদের শরীরের প্রধান জ্বালানি বা শক্তির উৎস। খাদ্যতালিকা থেকে এটি বাদ দিলে সুষম খাদ্যের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
⚠️ শর্করা বাদ দিলে ঝুঁকি
- কিটো অ্যাসিড তৈরি ও কোমা: শর্করা বন্ধ করলে শরীর দ্রুত চর্বি ভেঙে কিটো অ্যাসিড তৈরি করে, ফলে রক্তের পিএইচ কমে গিয়ে রোগী অজ্ঞান হয়ে কোমায় চলে যেতে পারেন।
- শারীরিক দুর্বলতা: পেশি ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হওয়ার কারণে পেশি শুকিয়ে যায়, অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দেয় এবং স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়।
- হাইপোগ্লাইসেমিয়া: শর্করা একেবারেই না খেলে রক্তের শর্করা অতিরিক্ত কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে, যা মাথাব্যথা, ক্লান্তি, খিঁচুনি, চেতনা হারানো এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
- অন্যান্য সমস্যা: পানিশূন্যতা, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
✅ করণীয় ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস
ডায়াবেটিসের রোগীর জন্য শর্করা বাদ দেওয়ার পরিবর্তে উপযুক্ত শর্করা খাবার বাছাই করা জরুরি। করণীয় হলো:
- উচ্চ আঁশযুক্ত, কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সসম্পন্ন জটিল শর্করা খাবার বেছে নিতে হবে, যা রক্তের সুগার দ্রুত বাড়ায় না।
- সারা দিনের খাবারে ৪০ শতাংশের বেশি শর্করা রাখা যাবে না।
- শর্করার উৎস হিসেবে লাল চাল, লাল আটা, বার্লি আটা, রোল্ড ওটস, ডাল ও শাকসবজি বেছে নিতে হবে।
- একবারে বেশি শর্করাজাতীয় খাবার না খেয়ে দুই-তিনবারে ভাগ করে খেতে হবে।
- স্ন্যাকস হিসেবে বাদাম, দুধ, টক দই, স্যুপ, চিবিয়ে খেতে হয় এমন ফল ও সালাদ খাওয়া উচিত।
প্রয়োজনে একজন পুষ্টিবিদ বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 
























