রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একই দিনে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে গভীর উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ, সিআইডি এবং ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে তদন্ত পরিচালনা করছে। প্রাথমিক তথ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে গুরুতর নির্মাণ ত্রুটি এবং ব্যবস্থাপনা সংকট লক্ষ্য করেছে। সংস্থাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দেশের সকল হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রমনা থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতালের কয়েকজনকে ডাকা হলেও কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার সময় পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডের এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেখান থেকে গ্যাস লিকেজ হয়। এর পরপরই ১ থেকে ২ দিন বয়সী নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ওই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের পাশাপাশি ১১ জন মা চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রমতে, ঘটনাস্থলে প্রবেশের পর কক্ষে অস্বাভাবিক ও তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি সংবেদনশীল পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে এমন পরিবেশ হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কক্ষে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি কক্ষের ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী থাকায় বায়ু চলাচল ব্যাহত হয়েছিল বলেও মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছু নির্মাণগত ত্রুটি পাওয়া গেছে, যা নবজাতকদের চিকিৎসার জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















