ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

কক্সবাজার সৈকতে ঈদের ছুটিতে উপচেপড়া পর্যটকদের ভিড়

কোরবানির ঈদের ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকদের অভূতপূর্ব সমাগম ঘটেছে। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া মানুষের ঢল দ্বিতীয় দিনে এসে উপচেপড়া ভিড়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী, সীগাল, দরিয়ানগর, ইনানী ও হিমছড়ি পয়েন্ট হাজার হাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।

ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটকেরা সমুদ্র নগরীতে ছুটে এসেছেন। এর ফলে শহরের প্রধান সড়কগুলোতেও যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষের অবিরাম ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সৈকতের বালুচরে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিশু-কিশোররা সাগরের ঢেউয়ে জলকেলিতে মেতে উঠেছে, কেউ ঘোড়ায় চড়ছে, কেউ বিচ বাইক চালাচ্ছে, আবার অনেকে পরিবার নিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিকালের পর সৈকতের মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এবং সূর্যাস্ত দেখার জন্যও পর্যটকদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ফুচকা, ঝালমুড়ি, ডাব, ভাজাপোড়া ও সামুদ্রিক খাবারের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক মাসের তুলনায় এবারের ঈদে পর্যটকের চাপ অনেক বেশি।

পর্যটকদের এই অতিরিক্ত চাপের কারণে কক্সবাজারের অধিকাংশ আবাসিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও রিসোর্টের কক্ষ পূর্ণ হয়ে গেছে। শহরের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টের বড় বড় হোটেলগুলো ঈদের আগেই অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন করেছে। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এবার পর্যটকের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। বিশেষ করে স্থানীয়দের পরিবারভিত্তিক পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক পর্যটক তিন থেকে পাঁচ দিনের ট্যুর পরিকল্পনা নিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন। কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৌখিম খান বলেন, ঈদের আগে থেকেই তুলনামূলকভাবে বুকিং ছিল এবং ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাকি দিনগুলোতেও লাখো পর্যটকের সমাগম হবে। ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক মাহবুবুর রহমান বলেন, কোরবানির ব্যস্ততা শেষে পরিবার নিয়ে এই ভ্রমণে এসেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা

কক্সবাজার সৈকতে ঈদের ছুটিতে উপচেপড়া পর্যটকদের ভিড়

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদের ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকদের অভূতপূর্ব সমাগম ঘটেছে। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া মানুষের ঢল দ্বিতীয় দিনে এসে উপচেপড়া ভিড়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী, সীগাল, দরিয়ানগর, ইনানী ও হিমছড়ি পয়েন্ট হাজার হাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।

ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটকেরা সমুদ্র নগরীতে ছুটে এসেছেন। এর ফলে শহরের প্রধান সড়কগুলোতেও যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষের অবিরাম ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সৈকতের বালুচরে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিশু-কিশোররা সাগরের ঢেউয়ে জলকেলিতে মেতে উঠেছে, কেউ ঘোড়ায় চড়ছে, কেউ বিচ বাইক চালাচ্ছে, আবার অনেকে পরিবার নিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিকালের পর সৈকতের মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এবং সূর্যাস্ত দেখার জন্যও পর্যটকদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ফুচকা, ঝালমুড়ি, ডাব, ভাজাপোড়া ও সামুদ্রিক খাবারের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক মাসের তুলনায় এবারের ঈদে পর্যটকের চাপ অনেক বেশি।

পর্যটকদের এই অতিরিক্ত চাপের কারণে কক্সবাজারের অধিকাংশ আবাসিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও রিসোর্টের কক্ষ পূর্ণ হয়ে গেছে। শহরের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টের বড় বড় হোটেলগুলো ঈদের আগেই অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন করেছে। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এবার পর্যটকের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। বিশেষ করে স্থানীয়দের পরিবারভিত্তিক পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক পর্যটক তিন থেকে পাঁচ দিনের ট্যুর পরিকল্পনা নিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন। কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৌখিম খান বলেন, ঈদের আগে থেকেই তুলনামূলকভাবে বুকিং ছিল এবং ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাকি দিনগুলোতেও লাখো পর্যটকের সমাগম হবে। ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক মাহবুবুর রহমান বলেন, কোরবানির ব্যস্ততা শেষে পরিবার নিয়ে এই ভ্রমণে এসেছেন।