সারাদেশ যখন ঈদুল আজহার আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে, তখন অনেক পরিবারের জন্য এবারের ঈদ বয়ে এনেছে কেবলই কান্না, উদ্বেগ আর শূন্যতা। যেখানে একদল শিশু বাবা-মায়ের কোলে ঈদ উদযাপন করছে, সেখানে অন্য অনেক পরিবার হাসপাতালের বিছানায় অসুস্থ সন্তানের পাশে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব কেড়ে নিয়েছে বহু পরিবারের ঈদের আনন্দ।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮২৫ জন। এর আগের দিনগুলোতেও মৃত্যুর হার ছিল উদ্বেগজনক। এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৫৬৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৮৮ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৭৭ জন। সব মিলিয়ে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৮৫ শিশু, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৪ হাজার ১৮২ জন।
ঈদের দিন রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। বাইরে যখন কোরবানির ব্যস্ততা আর উৎসবের আমেজ, তখন হাসপাতালের ওয়ার্ডজুড়ে উদ্বিগ্ন স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস। ছোট ছোট শিশুরা হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে ঈদ কাটাচ্ছে। কারও হাতে স্যালাইন, কেউ আবার অক্সিজেন সহায়তায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। হাসপাতালে আসা অভিভাবকরা জানান, সন্তানের অসুস্থতার কারণে তাদের পরিবারে এবার ঈদের কোনো আনন্দ নেই। নতুন পোশাক, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো বা ঈদের সকল আয়োজন থেমে গেছে হাসপাতালের চার দেয়ালের মধ্যে। সন্তান সুস্থ হয়ে উঠবে—এই একটিই এখন তাদের একমাত্র প্রার্থনা। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারও নতুন করে আরও দুই শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আনন্দের এই ঈদের দিনেও কিছু পরিবার হাসপাতালের বিছানায়, শঙ্কা, অশ্রু আর স্বজন হারানোর গভীর বেদনা নিয়ে ঈদ পার করছে।
রিপোর্টারের নাম 






















