ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

অপরাধ জগতে নতুন ত্রাস ‘পর্দা রনি’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পুরান ঢাকায় লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর ঢাকা মহানগরীর অপরাধ জগতে ‘পর্দা রনি’ নামে এক নতুন ত্রাসের উত্থান হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, রনি হলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মুদি দোকানদার এবং পরবর্তীকালে ডিশ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত রনি বর্তমানে ঢাকার অপরাধ জগতের নতুন নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ডিবি রনিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রনি মূলত মুদি দোকানদার ছিলেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন কারাগারে থাকাকালীন তার সঙ্গে রনির পরিচয় হয়। ইমন রনির মাধ্যমে তার অপরাধচক্রের একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন। রনি শুরুতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় ডিশ ব্যবসা দখল, চাঁদাবাজি এবং হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করে কারাগারে থাকা ইমনকে পাঠাতেন। পরে তিনি সন্ত্রাসী ইমনের শিষ্যদের ব্যবহার করে বড় বড় অপরাধ করতে শুরু করেন এবং মিরপুর এলাকায়ও নিজের আধিপত্য বাড়াতে থাকেন। এভাবেই রনি ধীরে ধীরে ঢাকার অপরাধ জগতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

মামুন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী

ডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনকে হত্যার মূল পরিকল্পনা ছিল ইমনের। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রনির নির্দেশেই ফারুক হোসেন ফয়সাল ও রবিন আহম্মেদ পিয়াস গুলি চালায়। রনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যার নির্দেশনা দেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত শুটার ফারুক, রবিন, রুবেল, শামীম আহম্মেদ ও ইউসুফ ওরফে জীবনকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও, মূল পরিকল্পনাকারী রনির খোঁজ মিলছে না।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে নরসিংদীর ভেলানগর থেকে ফারুক, রবিন, শামীম ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যার পর তারা প্রথমে ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ফারুক ও রবিন ব্যবহৃত অস্ত্র এবং অব্যবহৃত গুলি রনির নির্দেশে রুবেলের কাছে রেখে আসেন। রুবেল সেই অস্ত্রগুলো পেশায় দরজি ইউসুফের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ ইউসুফের মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মোটরসাইকেল, অস্ত্র এবং নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। রনি এই টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে দুই ভাগে ভাগ করে দুই শুটারকে দিয়েছিলেন।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরোনো দ্বন্দ্ব

পুলিশ জানিয়েছে, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মামুন আবার অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। তিনি রনিকে পাত্তা না দিয়ে তার এলাকা দখল করার চেষ্টা করেন। তখনই শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সঙ্গে পরামর্শ করে রনি মামুনকে পথ থেকে সরানোর পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি ২ লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করেন।

পুলিশ ও ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরোনো দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা। মামুন ও ইমন দুজনই ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী, যারা প্রভাব বিস্তার ও এলাকা দখল নিয়ে লড়াই করছিলেন। ইমনের সহযোগী হিসেবে রনি দ্রুত অপরাধ জগতে পরিচিতি পান এবং সর্বশেষ মামুন হত্যার পর তিনি এখন ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন ত্রাসের চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঢাকার অপরাধ জগতের নতুন ত্রাস ইমনের সহযোগী সন্ত্রাসী রনিকে ধরতে আমরা তৎপরতা বাড়িয়েছি। তাকে খুঁজে বের করা হবে এবং আইনের আওয়তায় আসতে হবে। সন্ত্রাসী রনি এখন ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন ত্রাস এবং পুলিশের চোখে অপরাধী। তাকে ধরার পরে বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হওয়া যাবে।”

ডিবি অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী রনি ও তার সহযোগীদের ধরার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সেতুর অভাবে রংপুরের তারাগঞ্জে ২০ গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

অপরাধ জগতে নতুন ত্রাস ‘পর্দা রনি’

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর পুরান ঢাকায় লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর ঢাকা মহানগরীর অপরাধ জগতে ‘পর্দা রনি’ নামে এক নতুন ত্রাসের উত্থান হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, রনি হলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মুদি দোকানদার এবং পরবর্তীকালে ডিশ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত রনি বর্তমানে ঢাকার অপরাধ জগতের নতুন নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ডিবি রনিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রনি মূলত মুদি দোকানদার ছিলেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন কারাগারে থাকাকালীন তার সঙ্গে রনির পরিচয় হয়। ইমন রনির মাধ্যমে তার অপরাধচক্রের একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন। রনি শুরুতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় ডিশ ব্যবসা দখল, চাঁদাবাজি এবং হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করে কারাগারে থাকা ইমনকে পাঠাতেন। পরে তিনি সন্ত্রাসী ইমনের শিষ্যদের ব্যবহার করে বড় বড় অপরাধ করতে শুরু করেন এবং মিরপুর এলাকায়ও নিজের আধিপত্য বাড়াতে থাকেন। এভাবেই রনি ধীরে ধীরে ঢাকার অপরাধ জগতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

মামুন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী

ডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনকে হত্যার মূল পরিকল্পনা ছিল ইমনের। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রনির নির্দেশেই ফারুক হোসেন ফয়সাল ও রবিন আহম্মেদ পিয়াস গুলি চালায়। রনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যার নির্দেশনা দেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত শুটার ফারুক, রবিন, রুবেল, শামীম আহম্মেদ ও ইউসুফ ওরফে জীবনকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও, মূল পরিকল্পনাকারী রনির খোঁজ মিলছে না।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে নরসিংদীর ভেলানগর থেকে ফারুক, রবিন, শামীম ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যার পর তারা প্রথমে ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ফারুক ও রবিন ব্যবহৃত অস্ত্র এবং অব্যবহৃত গুলি রনির নির্দেশে রুবেলের কাছে রেখে আসেন। রুবেল সেই অস্ত্রগুলো পেশায় দরজি ইউসুফের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ ইউসুফের মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মোটরসাইকেল, অস্ত্র এবং নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। রনি এই টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে দুই ভাগে ভাগ করে দুই শুটারকে দিয়েছিলেন।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরোনো দ্বন্দ্ব

পুলিশ জানিয়েছে, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মামুন আবার অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। তিনি রনিকে পাত্তা না দিয়ে তার এলাকা দখল করার চেষ্টা করেন। তখনই শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সঙ্গে পরামর্শ করে রনি মামুনকে পথ থেকে সরানোর পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি ২ লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করেন।

পুলিশ ও ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরোনো দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা। মামুন ও ইমন দুজনই ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী, যারা প্রভাব বিস্তার ও এলাকা দখল নিয়ে লড়াই করছিলেন। ইমনের সহযোগী হিসেবে রনি দ্রুত অপরাধ জগতে পরিচিতি পান এবং সর্বশেষ মামুন হত্যার পর তিনি এখন ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন ত্রাসের চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঢাকার অপরাধ জগতের নতুন ত্রাস ইমনের সহযোগী সন্ত্রাসী রনিকে ধরতে আমরা তৎপরতা বাড়িয়েছি। তাকে খুঁজে বের করা হবে এবং আইনের আওয়তায় আসতে হবে। সন্ত্রাসী রনি এখন ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন ত্রাস এবং পুলিশের চোখে অপরাধী। তাকে ধরার পরে বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হওয়া যাবে।”

ডিবি অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী রনি ও তার সহযোগীদের ধরার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।