ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

মোবাইলের স্ক্রিনে ‘জয়ের’ মরীচিকা: অনলাইন জুয়ার ফাঁদে সর্বনাশ

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে শুরু হওয়া ‘মজা করে’ খেলা এখন অনেকের জীবনে ডেকে আনছে সর্বনাশ। প্রথমে কিছু টাকা জিতে বিকাশে তা ঢুকে পড়তেই বেড়ে যায় আত্মবিশ্বাস, বাড়ে বড় বাজি ধরার স্বপ্ন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় সঞ্চয়, জন্ম নেয় ঋণ, ভেঙে যায় পরিবার। এমন গল্প এখন আর শুধু শহর নয়, গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, রিকশার গ্যারেজ থেকে অভিজাত ড্রয়িংরুম— সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার অদৃশ্য জাল।

ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন এবং সহজ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ জুয়া ও বাজি ধরার আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ চক্র বাংলাদেশে হাজার হাজার কোটি টাকার এক ভয়ংকর অর্থনীতি তৈরি করেছে। এই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণরা, বাড়ছে ঋণ, প্রতারণা, খুন, আত্মহত্যা ও অর্থপাচারের ঘটনা। পরিস্থিতিকে ‘সমাজ ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি’ হিসেবে দেখছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই ১৮৬৭ সালের পুরনো আইন বাতিল করে অনলাইন জুয়া দমনে কঠোর ও আধুনিক নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একসময় জুয়া নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা হাতের মুঠোয়। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন অনলাইন বেটিংয়ে। ফুটপাতের চা-দোকানি, সেলুন কর্মী, হকার, সিকিউরিটি গার্ড, বিক্রয়কর্মী, গৃহপরিচারিকা, রিকশাচালক ও দিনমজুরের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বাস-ট্রাকের চালক-হেলপার, সিএনজিচালক, এমনকি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দিনের বড় একটি সময় কাটাচ্ছেন অনলাইনে বাজি ধরে।

শুরুতে ‘ফ্রি বোনাস’, ‘গ্যারান্টি জয়’ কিংবা ‘প্রথম ডিপোজিটে দ্বিগুণ টাকা’র মতো অফারে আকৃষ্ট করা হয় ব্যবহারকারীদের। প্রথম দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু টাকা জিতিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এতে দ্রুতই তৈরি হয় আসক্তি। পরে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত জুয়াড়ি ও স্থানীয় এজেন্ট গ্রেফতার হলেও আন্তর্জাতিক চক্রগুলোর মূলহোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে সক্রিয় রয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি সূত্র জানায়, তাদের সাইবার ইউনিট ইতোমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করে বন্ধ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষ দেখতে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

মোবাইলের স্ক্রিনে ‘জয়ের’ মরীচিকা: অনলাইন জুয়ার ফাঁদে সর্বনাশ

আপডেট সময় : ০১:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে শুরু হওয়া ‘মজা করে’ খেলা এখন অনেকের জীবনে ডেকে আনছে সর্বনাশ। প্রথমে কিছু টাকা জিতে বিকাশে তা ঢুকে পড়তেই বেড়ে যায় আত্মবিশ্বাস, বাড়ে বড় বাজি ধরার স্বপ্ন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় সঞ্চয়, জন্ম নেয় ঋণ, ভেঙে যায় পরিবার। এমন গল্প এখন আর শুধু শহর নয়, গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, রিকশার গ্যারেজ থেকে অভিজাত ড্রয়িংরুম— সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার অদৃশ্য জাল।

ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন এবং সহজ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ জুয়া ও বাজি ধরার আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ চক্র বাংলাদেশে হাজার হাজার কোটি টাকার এক ভয়ংকর অর্থনীতি তৈরি করেছে। এই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণরা, বাড়ছে ঋণ, প্রতারণা, খুন, আত্মহত্যা ও অর্থপাচারের ঘটনা। পরিস্থিতিকে ‘সমাজ ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি’ হিসেবে দেখছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই ১৮৬৭ সালের পুরনো আইন বাতিল করে অনলাইন জুয়া দমনে কঠোর ও আধুনিক নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একসময় জুয়া নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা হাতের মুঠোয়। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন অনলাইন বেটিংয়ে। ফুটপাতের চা-দোকানি, সেলুন কর্মী, হকার, সিকিউরিটি গার্ড, বিক্রয়কর্মী, গৃহপরিচারিকা, রিকশাচালক ও দিনমজুরের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বাস-ট্রাকের চালক-হেলপার, সিএনজিচালক, এমনকি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দিনের বড় একটি সময় কাটাচ্ছেন অনলাইনে বাজি ধরে।

শুরুতে ‘ফ্রি বোনাস’, ‘গ্যারান্টি জয়’ কিংবা ‘প্রথম ডিপোজিটে দ্বিগুণ টাকা’র মতো অফারে আকৃষ্ট করা হয় ব্যবহারকারীদের। প্রথম দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু টাকা জিতিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এতে দ্রুতই তৈরি হয় আসক্তি। পরে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত জুয়াড়ি ও স্থানীয় এজেন্ট গ্রেফতার হলেও আন্তর্জাতিক চক্রগুলোর মূলহোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে সক্রিয় রয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি সূত্র জানায়, তাদের সাইবার ইউনিট ইতোমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করে বন্ধ করেছে।