নড়াইলের কালিয়া উপজেলার শিবানন্দপুর গ্রামে পুকুরে ডুবে তাসলিমা খানম (১৫) ও কাওসার শেখ (৮) নামের দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহত শিশুদের মা এই মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ এবং এটিকে ‘হত্যা’ বলে অভিযোগ করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে। স্থানীয়রা জানান, শিবানন্দপুর গ্রামের দাউদ মীরের বাড়ির পেছনের পুকুর থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুই ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা ওই গ্রামের কৃষক আজিবার শেখের সন্তান। নিহত তাসলিমা বড়দিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল, আর কাওসার শিবানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে প্রতিবেশী নাহার বেগম তাসলিমা ও কাওসারকে পুকুরের দিকে যেতে দেখেন। সন্ধ্যা নামার পরও তাদের খোঁজ না মেলায় পরিবার ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর পাড়ে তাসলিমার ওড়না দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে পুকুরে তল্লাশি চালানো হয় এবং সেখান থেকে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তবে নিহতদের মা বেবি বেগম এই মৃত্যুকে দুর্ঘটনা মানতে নারাজ। তিনি অভিযোগ করেন, “আমার মেয়ে সাঁতার জানে, তারা ডুবে মারা যেতে পারে না। আমার স্বামী আজিবার শেখ ও তার ভাইয়েরা আমাকে প্রায় ৮-৯ মাস আগে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এখন তারা পরিকল্পিতভাবে আমার সন্তানদের হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।”
অন্যদিকে, নিহতদের বাবা আজিবার শেখ দাবি করেছেন, “তাদের কেউই সাঁতার জানত না। গোসল করতে নেমে পুকুরে ডুবে মারা গেছে।”
এ বিষয়ে নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
রিপোর্টারের নাম 





















