ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাসচাপায় হেফাজত নেতা নিহত: দুই মহাসড়ক অবরোধ করে হাটহাজারীতে তীব্র বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের রাউজানে বাসের চাপায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা সোহেল চৌধুরী (৫০) নিহতের ঘটনায় হাটহাজারীতে বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে সড়ক অবরোধ চলছে। এর ফলে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার সকাল ৭টা থেকে এই দুটি মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এতে স্কুল-কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পথচারীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়কের প্রবেশদ্বার হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড, হাটহাজারী বাজার, হাটহাজারী কলেজ গেট, ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল পুরোপুরি থেমে আছে। বিক্ষোভকারীরা সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে এবং বসে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এর ফলে দুই মহাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী অভিযোগ করে জানান, মঙ্গলবার হেফাজতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা সোহেল চৌধুরী চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের রাউজান উপজেলার গহিরা শান্তির দ্বীপ এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একটি বাস পেছন থেকে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই হেফাজতের সদস্যরা ঘাতক চালক, গাড়ি ও নিহতের মরদেহ নিয়ে রাউজান হাইওয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদের নিজেদের মতো করে মামলার এজাহার লেখার প্রস্তাব দেয়। এতে হেফাজত নেতারা রাজি না হয়ে এজাহারে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করার দাবি জানান। কিন্তু পুলিশ তাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মামলা নেয়নি। এর প্রতিবাদেই বুধবার সকাল থেকে হাটহাজারী উপজেলায় হেফাজতের এই অবরোধ কর্মসূচি চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকালের দিকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের রাউজান উপজেলার গহিরা শান্তির দ্বীপের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সোহেল চৌধুরীর জন্মস্থান সন্দ্বীপ উপজেলায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার মেডিক্যাল গেট এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। জানা গেছে, মাওলানা সোহেল চৌধুরী রাউজানের কচুখাইন আহমদিয়া আল ইসলামিয়া আল হিকমা মাদ্রাসার সাবেক মুহতামিম ছিলেন।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ঘাতক বাসের চালক জানে আলমকে (৪০) স্থানীয়রাই আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বর্তমানে বাস চালক জানে আলম পুলিশ হেফাজতে আছেন।

হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এমরান সিকদার জানান, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল এক হেফাজত নেতা রাউজানে মারা গেছেন। এর প্রতিবাদে হাটহাজারীতে সড়ক অবরোধ চলছে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে জানার জন্য রাউজান হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ উল্লাহকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

বাসচাপায় হেফাজত নেতা নিহত: দুই মহাসড়ক অবরোধ করে হাটহাজারীতে তীব্র বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১২:০২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রামের রাউজানে বাসের চাপায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা সোহেল চৌধুরী (৫০) নিহতের ঘটনায় হাটহাজারীতে বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে সড়ক অবরোধ চলছে। এর ফলে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার সকাল ৭টা থেকে এই দুটি মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এতে স্কুল-কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পথচারীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়কের প্রবেশদ্বার হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড, হাটহাজারী বাজার, হাটহাজারী কলেজ গেট, ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল পুরোপুরি থেমে আছে। বিক্ষোভকারীরা সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে এবং বসে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এর ফলে দুই মহাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী অভিযোগ করে জানান, মঙ্গলবার হেফাজতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা সোহেল চৌধুরী চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের রাউজান উপজেলার গহিরা শান্তির দ্বীপ এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একটি বাস পেছন থেকে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই হেফাজতের সদস্যরা ঘাতক চালক, গাড়ি ও নিহতের মরদেহ নিয়ে রাউজান হাইওয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদের নিজেদের মতো করে মামলার এজাহার লেখার প্রস্তাব দেয়। এতে হেফাজত নেতারা রাজি না হয়ে এজাহারে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করার দাবি জানান। কিন্তু পুলিশ তাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মামলা নেয়নি। এর প্রতিবাদেই বুধবার সকাল থেকে হাটহাজারী উপজেলায় হেফাজতের এই অবরোধ কর্মসূচি চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকালের দিকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের রাউজান উপজেলার গহিরা শান্তির দ্বীপের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সোহেল চৌধুরীর জন্মস্থান সন্দ্বীপ উপজেলায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার মেডিক্যাল গেট এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। জানা গেছে, মাওলানা সোহেল চৌধুরী রাউজানের কচুখাইন আহমদিয়া আল ইসলামিয়া আল হিকমা মাদ্রাসার সাবেক মুহতামিম ছিলেন।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ঘাতক বাসের চালক জানে আলমকে (৪০) স্থানীয়রাই আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বর্তমানে বাস চালক জানে আলম পুলিশ হেফাজতে আছেন।

হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এমরান সিকদার জানান, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল এক হেফাজত নেতা রাউজানে মারা গেছেন। এর প্রতিবাদে হাটহাজারীতে সড়ক অবরোধ চলছে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে জানার জন্য রাউজান হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ উল্লাহকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।