ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাখির খাবার দেখিয়ে পাকিস্তান থেকে আনা হলো মাদক, কাস্টমসের হাতে চালান জব্দ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দরে পাখির খাবারের (বার্ড ফুড) আড়ালে আনা মাদকের একটি বড় চালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তান থেকে আনা এই চালানটিতে মোট ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি পপি সিড (পোস্ত দানা) পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্স (এআইআর) শাখা এই চালানটি আটক করে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম কাস্টমসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই চালানের আমদানিকারকরা সাড়ে ৬ কোটি টাকার পণ্য এনেছিলেন, কিন্তু সেটিকে তারা মাত্র ৩০ লাখ টাকার পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) এইচ এম কবির জাগো নিউজকে এই ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

কাস্টমস জানায়, গত ৯ অক্টোবর ‘বার্ড ফুড’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দুটি কন্টেইনারে মোট ৩২ হাজার ১০ কেজি পণ্যের একটি চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। চালানটি খালাসের জন্য পরে একটি বেসরকারি অফডক (ছাবের আহমেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডের ডিপো) এ নিয়ে যাওয়া হয়। চট্টগ্রামের কোতোয়ালি এলাকার কোরবানিগঞ্জের ‘মেসার্স আদিব ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই চালানটি আমদানি করে। আর এটি খালাসের দায়িত্বে ছিল হালিশহরের ‘এম এইচ ট্রেডিং কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিমিটেড’। তারা গত ১৪ অক্টোবর কাস্টমসের সিস্টেমে ‘বার্ড ফুড’ হিসেবেই বিল অব এন্ট্রি জমা দেয়। কিন্তু চালানটির উৎস (পাকিস্তান), রপ্তানিকারক এবং আমদানিকারকের ব্যবসার ধরণ দেখে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। তারা ধারণা করেন, ঘোষণায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। এরপরই চালানটি খালাস স্থগিত করে দেওয়া হয় এবং সিস্টেমে ‘লক’ করে দেওয়া হয়।

এরপর গত ২২ অক্টোবর ডিপো কর্তৃপক্ষ এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লোকজনের সামনে কাস্টমসের এআইআর শাখা কন্টেইনার দুটি খুলে কায়িক পরীক্ষা করে। তখনই আসল ঘটনা ধরা পড়ে। দেখা যায়, দুটি কন্টেইনারে মাত্র ৭ হাজার ২০০ কেজি পাখির খাবার আছে, আর বাকি ২৪ হাজার ৯৬০ কেজিই হলো পপি সিড। এরপর এই পন্যের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্টেও নিশ্চিত করা হয় যে, ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি পণ্য আসলে পপি সিড।

কায়িক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, আমদানিকারকরা খুব কৌশলে এই কাজটি করার চেষ্টা করেছিল। তারা কন্টেইনারের দরজার ঠিক সামনেই পাখির খাবারের বস্তাগুলো রেখেছিল, যাতে ভেতরের পপি সিডগুলো আড়ালে থাকে। উল্লেখ্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (২০১৮) অনুযায়ী পপি সিড একটি ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া, দেশের আমদানি নীতি আদেশ (২০২১-২০২৪) অনুযায়ীও পপি সিড আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় রয়েছে। যদিও বাংলাদেশে এই পপি সিড ‘পোস্ত দানা’ নামে পরিচিত এবং এটি রান্নার মসলা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই পুরো চালানটির ঘোষিত মূল্য ছিল মাত্র ৩০ লাখ ২ হাজার ৪৮২ টাকা। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় যে পণ্য পাওয়া গেছে, তার আসল বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কাস্টমসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নিষিদ্ধ পণ্য আমদানিসের সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

পাখির খাবার দেখিয়ে পাকিস্তান থেকে আনা হলো মাদক, কাস্টমসের হাতে চালান জব্দ

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম বন্দরে পাখির খাবারের (বার্ড ফুড) আড়ালে আনা মাদকের একটি বড় চালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তান থেকে আনা এই চালানটিতে মোট ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি পপি সিড (পোস্ত দানা) পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্স (এআইআর) শাখা এই চালানটি আটক করে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম কাস্টমসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই চালানের আমদানিকারকরা সাড়ে ৬ কোটি টাকার পণ্য এনেছিলেন, কিন্তু সেটিকে তারা মাত্র ৩০ লাখ টাকার পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) এইচ এম কবির জাগো নিউজকে এই ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

কাস্টমস জানায়, গত ৯ অক্টোবর ‘বার্ড ফুড’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দুটি কন্টেইনারে মোট ৩২ হাজার ১০ কেজি পণ্যের একটি চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। চালানটি খালাসের জন্য পরে একটি বেসরকারি অফডক (ছাবের আহমেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডের ডিপো) এ নিয়ে যাওয়া হয়। চট্টগ্রামের কোতোয়ালি এলাকার কোরবানিগঞ্জের ‘মেসার্স আদিব ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই চালানটি আমদানি করে। আর এটি খালাসের দায়িত্বে ছিল হালিশহরের ‘এম এইচ ট্রেডিং কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিমিটেড’। তারা গত ১৪ অক্টোবর কাস্টমসের সিস্টেমে ‘বার্ড ফুড’ হিসেবেই বিল অব এন্ট্রি জমা দেয়। কিন্তু চালানটির উৎস (পাকিস্তান), রপ্তানিকারক এবং আমদানিকারকের ব্যবসার ধরণ দেখে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। তারা ধারণা করেন, ঘোষণায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। এরপরই চালানটি খালাস স্থগিত করে দেওয়া হয় এবং সিস্টেমে ‘লক’ করে দেওয়া হয়।

এরপর গত ২২ অক্টোবর ডিপো কর্তৃপক্ষ এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লোকজনের সামনে কাস্টমসের এআইআর শাখা কন্টেইনার দুটি খুলে কায়িক পরীক্ষা করে। তখনই আসল ঘটনা ধরা পড়ে। দেখা যায়, দুটি কন্টেইনারে মাত্র ৭ হাজার ২০০ কেজি পাখির খাবার আছে, আর বাকি ২৪ হাজার ৯৬০ কেজিই হলো পপি সিড। এরপর এই পন্যের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্টেও নিশ্চিত করা হয় যে, ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি পণ্য আসলে পপি সিড।

কায়িক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, আমদানিকারকরা খুব কৌশলে এই কাজটি করার চেষ্টা করেছিল। তারা কন্টেইনারের দরজার ঠিক সামনেই পাখির খাবারের বস্তাগুলো রেখেছিল, যাতে ভেতরের পপি সিডগুলো আড়ালে থাকে। উল্লেখ্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (২০১৮) অনুযায়ী পপি সিড একটি ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া, দেশের আমদানি নীতি আদেশ (২০২১-২০২৪) অনুযায়ীও পপি সিড আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় রয়েছে। যদিও বাংলাদেশে এই পপি সিড ‘পোস্ত দানা’ নামে পরিচিত এবং এটি রান্নার মসলা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই পুরো চালানটির ঘোষিত মূল্য ছিল মাত্র ৩০ লাখ ২ হাজার ৪৮২ টাকা। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় যে পণ্য পাওয়া গেছে, তার আসল বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কাস্টমসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নিষিদ্ধ পণ্য আমদানিসের সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।