ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

গাজায় যুদ্ধের এক হাজার দিন: মানবিক সংকট ও ফিলিস্তিনিদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের এক হাজার দিন পূর্ণ হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও উপত্যকাটিতে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি; বরং প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ঘটছে, যা সেখানকার মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৫০ জনের বেশি নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি।

গাজায় ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনির ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত। তাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অধীনে ইসরায়েলি বাহিনী এই অঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করত, কিন্তু ইসরায়েল সরকার এখন ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে।

এই অঞ্চলে মানুষের প্রবেশ বা প্রস্থান অত্যন্ত সীমিত। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠনের বিশাল কাজসহ যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কার্যত থমকে আছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস ভন আর্ক্স সম্প্রতি বলেছেন, স্বাভাবিক জীবনের সামান্যতম আভাস ফিরিয়ে আনতেও আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন, কিন্তু সেই অবস্থা থেকে আমরা এখনও অনেক দূরে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে যে, গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সম্প্রসারণ বেসামরিক মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক এলাকায় স্পষ্ট সীমারেখা না থাকায় সাধারণ মানুষ আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় মোট ৭৩ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা

গাজায় যুদ্ধের এক হাজার দিন: মানবিক সংকট ও ফিলিস্তিনিদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

আপডেট সময় : ০৬:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের এক হাজার দিন পূর্ণ হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও উপত্যকাটিতে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি; বরং প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ঘটছে, যা সেখানকার মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৫০ জনের বেশি নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি।

গাজায় ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনির ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত। তাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অধীনে ইসরায়েলি বাহিনী এই অঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করত, কিন্তু ইসরায়েল সরকার এখন ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে।

এই অঞ্চলে মানুষের প্রবেশ বা প্রস্থান অত্যন্ত সীমিত। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠনের বিশাল কাজসহ যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কার্যত থমকে আছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস ভন আর্ক্স সম্প্রতি বলেছেন, স্বাভাবিক জীবনের সামান্যতম আভাস ফিরিয়ে আনতেও আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন, কিন্তু সেই অবস্থা থেকে আমরা এখনও অনেক দূরে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে যে, গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সম্প্রসারণ বেসামরিক মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক এলাকায় স্পষ্ট সীমারেখা না থাকায় সাধারণ মানুষ আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় মোট ৭৩ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।