গাজায় চলমান সংঘাতের এক হাজার দিনে অন্তত ২১ হাজার শিশুর প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, এই সময়ে আরও কয়েক লক্ষ শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং তাদের শিক্ষা গ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। সেভ দ্য চিলড্রেন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, বাড়িঘর, স্কুল এবং নিরাপত্তার অনুভূতি হারানোর পরেও শিশুরা শান্তির স্বপ্ন দেখে চলেছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক আহমাদ আহেনদাউই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত ১,০০০ দিনে বিশ্ব গাজার ১০ লাখ শিশুকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। শিশু হত্যা ও অঙ্গহানি বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায় প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করেনি।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে নিশ্চিতভাবে ২১,০০০ শিশু নিহত হয়েছে, তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শিশুদের সংখ্যা বিবেচনা করলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। এছাড়া, গাজার মোট শিশুর প্রায় ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ ৮ লাখের বেশি শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ৬ লাখ ২৫ হাজার স্কুলপড়ুয়া শিশু টানা তিন বছর ধরে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।
সেভ দ্য চিলড্রেনের সঙ্গে কথা বলা ১৪ বছর বয়সী আমানি নামের এক কিশোরী জানায়, ‘আমরা যেকোনো মুহূর্তে মারা যেতে পারি, তবে আমি আশা করি আমাদের জন্য যুদ্ধটা থেমে যাবে। যেন আমি গাজায় আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারি এবং অন্য দেশের যেকোনো মেয়ের মতো আমার অধিকার ভোগ করতে পারি। গাজায় এমন অনেক শিশু আছে যাদের কথা কেউ শোনে না।’ আরেক ১৪ বছর বয়সী কিশোরী বিসান জানায়, তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা যুদ্ধ শেষ হওয়া, সবাই নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাওয়া এবং আগের জীবনে ফিরতে পারা।
সেভ দ্য চিলড্রেন অবিলম্বে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও গাজায় ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং পুরো উপত্যকা ব্যাপক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















