বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার তালিকায় অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গঠনতন্ত্রের ‘শর্ত লঙ্ঘন করে’ নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ৪০ জনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতেই এই নতুন সদস্যপদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে এসব সদস্যের অনেকের পাঁচটি মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের ‘শর্ত পূরণ না করায়’ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হচ্ছে, বর্তমান কমিটির একজন প্রার্থীর মেয়ে এবং স্ত্রীসহ এমন অনেককে পূর্ণ সদস্যপদ ও ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাদের মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার সংখ্যা দুই বা তিন, আবার কারো কোনো সিনেমাই মুক্তি পায়নি। অথচ শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৫ (ক) ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, “পূর্ণ সদস্যের তালিকায় বাংলাদেশে মুক্তিপ্রাপ্ত ন্যূনতম পাঁচটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অবিতর্কিত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করিলে তিনি পূর্ণ সদস্য পদের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন। কার্যকরী পরিষদে তার আবেদন গৃহীত হইলে তিনি পূর্ণ সদস্য পদ লাভ করিবেন এবং তিনি ভোটাধিকার সহ কার্যকরী পরিষদের যে কোন পদের জন্য যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন। পূর্ণ সদস্য পদের জন্য আবেদনকারীকে পেশাগতভাবে অবশ্যই ‘চলচ্চিত্র অভিনয় শিল্পী’ হইতে হইবে।”
‘গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে’ নতুন সদস্য পদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সমিতির সদস্য এবিএম সোহেল রশিদ বলেন, ‘শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পাঁচটি সিনেমায় কাজ না করলে সদস্য পদ দেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রায় ৪০ জন নতুন সদস্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমান কমিটির একটি প্যানেলের সহ-সভাপতি তার পদের প্রভাব খাটিয়ে স্নেহবশত নিজের মেয়েসহ পরিচিতদের মেম্বার বানিয়েছেন। যেখানে মেয়ে শিশুশিল্পী হিসেবে সিনেমায় কাজ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সময়ে ৫০-৬০টি সিনেমা করার পর, দুই-তিন বছর চেষ্টা করে মেম্বার হতে হয়েছিল। আর এখন নিয়ম ভাঙার এই সংস্কৃতি চলছে। এখানে নতুন সদস্যদের মধ্যে প্রার্থীদের একজনের স্ত্রীও আছেন, যার পাঁচটি সিনেমা করা হয়নি কিন্তু পূর্ণ সদস্যপদ পেয়েছেন। আরও অনেকজন আছেন যাদের সদস্যপদ হওয়ার জন্য যোগ্যতা তৈরি হয়নি কিন্তু সদস্য হয়ে গেছেন।’
এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ করেছেন কি না প্রশ্নে রশিদ বলেন, ‘প্রতিবাদ জানিয়েছি, আর এখানে তো সুযোগ নাই অভিযোগ জানানোর। শিল্পী সমিতির এজিএম-এ আমরা কেউ কেউ দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম, কিন্তু প্রভাবশালীদের সংখ্যা বেশি থাকায় আমরা আসলে কিছু করতে পারিনি।’
রিপোর্টারের নাম 

























